প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য মরা জেলিফিশ

   
প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

এক মাস যেতে না যেতেই ফের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মরা বড় বড় জেলিফিশ। একেকটি জেলিফিশের ওজন ১০ থেকে ১৫ কেজি। সৈকতের বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা এসব মরা জেলিফিশ দেখে অনেক পর্যটক স্পর্শ করছেন। তবে, প্রাণঘাতী না হলেও মরা জেলিফিশের সংস্পর্শে গেলে মানুষের শরীরে চুলকানিসহ নানা সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্ট্রিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানায়, জেলিফিশ; নামের সঙ্গে ফিশ থাকলেও জেলিফিশ কোনো মাছ নয়। সাগরতরে ঘুরে বেড়ানো এই প্রাণী যেমন সুন্দর তেমনি অদ্ভুত। গত আগস্ট মাসের শুরুতেই সপ্তাহখানেক সৈকতে ভেসে এসেছিল অসংখ্য বড় বড় মরা জেলিফিশ। সপ্তাহখানেক পর তা আর দেখা যায়নি। কিন্ত তার ঠিক এক মাস যেতে না যেতেই কক্সবাজার সৈকতের উপকূলে ফের ভেসে এসেছে অংসখ্য বড় বড় মরা জেলিফিশ।

জেলিফিশগুলো আটকে পড়েছে সৈকতের বালিয়াড়ি। এক সঙ্গে এতো মরা জেলিফিশ দেখে কৌতুহল বেড়েছে ভ্রমণপিপাসুদের। বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা মরা জেলিফিশগুলো ধরে দেখছেন তারা। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে এক সঙ্গে পড়ে আছে ১৭টির মরা বড় বড় জেলিফিশ। এসব জেলিফিশ দেখছেন ফেনী থেকে বেড়াতে আসা ৩ বন্ধু আইয়ুব, রিয়াদ ও জসিম। তারা ৩জনই অনেকক্ষণ মরা জেলিফিশগুলোর সঙ্গে ছবি তুললেন এবং হাত দিয়ে ধরে দেখলেন।

এসময় কথা হয় আইয়ুব আলী সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে অনেকগুলো মরা জেলিফিশ। হাত দিয়ে ধরে দেখলাম। এছাড়াও জেলিফিশগুলো দেখতে ফুলের মতো, খুবই সুন্দর লাগছে। তাই জেলিফিশ নিয়ে ছবিও তুললাম। সিয়াম আহমেদ নামের আরেক পর্যটক বলেন, আমরা যখন ঘুরছি তখন বালিয়াড়িতে প্রচুর জেলিফিশ পড়ে থাকতে দেখছি। এগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। কিন্তু এই জেলিফিশগুলো ধরে দেখছি কারণ জেলিফিশটা আসলে কি রকম। সে জন্য একটু হাত দিয়ে ধরে দেখছি জীবিত আছে কিনা। আর যদি জীবিত থাকতো তাহলে পানিতে ছেড়ে দিতাম।

আরেক পর্যটক ছৈয়দ নুর বলেন, জেলিফিশগুলো অনেক সুন্দর। কিন্তু সুন্দর হলে কি হবে আমি আধা ঘন্টা আগে জেলিফিশগুলো ধরে ছিলাম। এখন দেখছি, যে হাত দিয়ে ধরেছি সেই হাত চুলকানি করছে। দেখছি অনেক জেলিফিশ মারা ভাসছে সৈকতের বালিয়াড়িতে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের পদচারণা থাকে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে। এসব পয়েন্টেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ভেসে এসেছে অসংখ্য মরা জেলিফিশ।

সৈকতের টিউব ব্যবসায়ী রমজান বলেন, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক ঘন্টা ভেসে এসেছে ৫০টির বেশি মরা জেলিফিশ। এক মাস আগেও মরা জেলিফিশ বেশি ভেসে এসেছিল। এখন আবারও মরা জেলিফিশ আসা শুরু হয়েছে।

সী সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, কলাতলী থেকে লাবণী সৈকত পর্যন্ত শুক্রবার সকালে ৩০০ মতো মরা বড় বড় জেলিফিশ ভেসে এসেছে। যা পর্যটকরা হাত ও পা দিয়ে ধরছে। আমরা তাদেরকে নিষেধ করছি এই জেলিফিশগুলো যাতে না ধরে। কারণ জেলিফিশ ধরলেই চুলকানি হয় বিষয়টা পর্যটকদের বলছি।

জেলিফিশ দেখতে খুবই সুন্দর জলজ প্রাণী। তবে মরা জেলিফিশগুলো হাতে স্পর্শ না করতে মাইকিং করা হচ্ছে। আর মরা জেলিফিশগুলো গর্ত করে মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, সৈকতে প্রচুর মরা জেলিফিশ ভেসে এসেছে। ভাটার সময় মরা জেলিফিশগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে- সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে গুনে প্রায় ৩ শতাধিক পাওয়া গেছে। এছাড়াও অন্যান্য পয়েন্টেও আনুমানিক ৫ শতাধিকের মতো দেখা গেছে।

মো. মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, মরা জেলিফিশ ভেসে আসায় সৈকতে মাইকিং করা হয়েছে, যাতে মরা জেলিফিশগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ না করে। আর বিচ কর্মীদের একটা টিম রয়েছে, যারা এসব মরা জেলিফিশগুলো বস্তা বন্দি করে মাটিতে পুঁতে ফেলার কাজ করছে। এর আগে আগস্ট মাসের শুরুতেই এক সপ্তাহ সৈকতে ভেসে এসেছিল এক হাজারের বেশি মরা জেলিফিশ। যা বক্স প্রজাপতির জেলিফিশ বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: