প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক নাহারুল আটক

   
প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

ওয়ালিদুজ্জামান শুভ, কুষ্টিয়া থেকে: কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শাখার সহকারী শিক্ষক নাহারুল ইসলাম কে একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগে বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, গত ১২/৯/২০২২ ইংরেজি তারিখে সহকারি শিক্ষক নাহারুল ইসলাম দির্ঘ দিন যাবত তার নিজ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনীর ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪/৯/২০২২ ইংরেজি তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ কমিটির জরুরী মিটিং ডাকা হয়।

মিটিংয়ে লোকজন উপস্থিত হতে শুরু করলে বিষয়টি বিদ্যালয় ছাড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস ছেলে বাহিরে বের হয়ে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানালে থানাপুলিশ সহকারী শিক্ষক নাহারুলকে আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টা আমি উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে অবহিত করেছি। নাহারুল ইসলাম-পূর্ব এরকম একটি ঘটনাতে ৮ মাস বহিস্কৃত ছিলেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনীর ছাত্রীরা বলেন, নাহারুল স্যার বিভিন্ন সময়ে আমাদের তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আমাদের আপত্তিকর স্থানে হাত দেয় ও জড়িয়ে ধরে কিস করার কথা বলেন। এবং আমার যারা তার কাছে প্রায়ভেট পড়ি তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করে। আমরা এই শিক্ষকের বিচার চাই। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুগোলবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা কমিটির লোকজন জরুরি মিটিং কল করি। আজ দুপুরে মিটিংয়ে বসি। পরে ছাত্রীদের বক্তব্যো শুনি।বক্তব্য শুনে আমরা ব্যথিত হয়েছি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ আমরা আশা করিনি। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পক্ষ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সরদার আবু সালেক বলেন, মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানানোর সাথে সাথে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছি। ছাত্রীদের বক্তব্য শুনে আমার ্কাছে মনে হয় নাহারুল ইসলাম এই কাজের সাথে জড়িত। তবে তদন্ত করে যদি জড়িত থাকার সতত্যা পাই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ জাবীদ হাচান, বলেন নাহারুল নামে এক শিক্ষক কে আটক করা হয়েছে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: