প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শেখ রাজেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদে মুখোমুখি ২ আ.লীগ নেতা

   
প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিন প্রার্থী। তাদের দুজন আওয়ামী লীগ নেতা। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল আলম এমএসসি এবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর তাদের সঙ্গে তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এদিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে এই তিন ছাড়াও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মোট ৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকতা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বিডি২৪লাইভকে জানান, নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৫২ জন। এর মধ্যে নাসিরনগরে সাতজন, সরাইলে ছয়জন, আশুগঞ্জে ছয়জন, সদরে সাতজন, বিজয়নগরে ছয়জন, আখাউড়ায় পাঁচজন, কসবায় পাঁচজন, নবীনগর ছয়জন ও বাঞ্ছারামপুরে চারজন। আর নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনপ্রত্যাশী ছিলেন তিনজন— আল মামুন সরকার, শফিকুল আলম এমএসসি ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ির সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। গত ১০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন পান আল মামুন সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে হেলাল উদ্দিন আর মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তবে শফিকুল আলম এমএসসি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে হিসাবে তাকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বলা হলেও তিনি নিজে সেটি স্বীকার করতে রাজি নন।

‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার নজির অবশ্য গত নির্বাচনেই করেছেন শফিকুল। সেবার আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছিল প্রয়াত সৈয়দ এ কে এমদাদুল বারীকে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শফিকুল ভোটে দাঁড়ান এবং এমদাদুল বারীকে পরাজিত করেন। ভোটের মাঠে জয়ের কারণেই আওয়ামী লীগের সমর্থনপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তা না পেয়ে এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তিনি ভোট করছেন। আর ভোটের মাঠের হিসাবের কারণেই তার সমর্থকরা এবারও জয়ের প্রত্যাশা করছেন।

বিদ্রোহী’ প্রার্থীর তকমা নিতে নারাজ শফিকুল বিডি২৪লাইভকে বলেন, ২০১৪ সালের পর আমাকে দলের কোনো পদে রাখা হয়নি। দলীয় কোনো পদ না থাকায় আমাকে ‘বিদ্রোহী’ বলা যাবে না। আমি একাধিকবার দলের পদে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো পদই পাইনি। তবে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। এর আগেও আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি, এখনো করছি।

শফিকুল আলমকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মেনেই নির্বাচন করবেন জানিয়ে আল মামুন সরকার বিডি২৪লাইভকে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। এখন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। অর্থাৎ তিনি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। এর আগে তাকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কমিটি ক্ষমা করে দিয়েছিল। তাছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি ছিলেন। তারপরও তিনি আবার স্বতন্ত্র হন কীভাবে?

এদিকে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন নবীনগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু কালাম আজাদ। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেয়া হয়নি।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: