প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

ডিজিটাল সমাবর্তন” চায় না সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা

   
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

সম্প্রতি ৫৩ তম সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদেরকেও উক্ত সমাবর্তনের অংশ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে৷ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সমাবর্তনের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও থাকছে না সাত শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ।

সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল সমাবর্তনের ব্যাবস্থা অর্থাৎ’ প্রজেক্টরে মাধ্যমে সমাবর্তন এ ‘ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজের সর্ববৃহৎ ফেসবুক গ্রুপে ভার্চুয়াল ভোটের আয়োজন করলে সেখানে দেখা যায় ৯০% শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। মাত্র ৯% শিক্ষার্থী সমাবর্তনের পক্ষে ভোট প্রদান করেন।

আবার কেউ কেউ বলছেন এটা এক রকম প্রহসনের সমাবর্তন। শিক্ষার্থীরা বলছেন ” গ্রামের যাত্রা পালার মতো সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন” ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্স (২০১৭) শিক্ষার্থীতাসমিয়াহ্ আমিন বিডি২৪লাইভকে বলেন, সমাবর্তন হলো সনদ হস্তান্তর এর দিন, যেটা সর্বোচ্চ পদস্থ এর হাত দিয়ে শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়।

সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে না আছে কোন সম্মান, না আছে কোন আনুষ্ঠানিকতা। শুধুই প্রহসন। তিনি আরও বলেন, দেশের ঐতিহাসিক সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাবির সাথে এক স্থানে না হলেও, আলাদা সম্মিলিত একটা স্থানে অনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রপতি বা উচ্চ পদস্থ কারো দ্বারা সম্মানিত হবার অধিকার আছে।

এই দিনটি শিক্ষার্থীর জন্য সব চেয়ে স্মরণীয় দিন। এটাকে সর্বোত্তম করার দায়িত্ব ও ঢাকা বিশ্বিদ্যালয় এর।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এম এম রানা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রামের যাত্রা পালার মতো প্রজেক্টরে সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য হাস্যকর।

তিনি আরও বলেন, এই ডিজিটাল সমাবর্তন আর ঘরে বসে টিভি দেখা কিংবা যাত্রাপালা দেখা কিংবা বায়োস্কোপ দেখার মধ্যে কোন পার্থক্য দেখি না। খুবই দুঃখের বিষয় যে, অধিভুক্তির পর থেকে দেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠসমূহ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহনকৃত এসব শিক্ষার্থীদের সাথে সমাবর্তনের নামে এমনই এক হাস্যরসাত্মক, ব্যঙ্গকৌতুক করে আসছে ঢাবি প্রশাসন। আর ফলে সমাজের চোখে হাস্যকর পাত্রে পরিনত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং তাদের উচ্চশিক্ষা৷

ঢাকা কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মাহদী বলেন,  ঢাবি আর সাত কলেজ এত কাছাকাছি দুরত্ব হওয়া সত্বেও সাত কলেজের ক্যাম্পাসের মাঠে প্রজেক্টরের মাধ্যমে অনলাইন সমাবর্তন করা আর বাড়ীতে বসে বিটিভিতে সমাবর্তন দেখা একই কথা বলে মনে।

বিষয়টা একটু গভীর ভাবে মাথা খাটালে দেখবেন এটি একটা বৈষম্যমুলক সমাবর্তন।কারন বাকি আরো ১০০+ ঢাবির অধিনে প্রতিষ্ঠান গুলো যেহেতু ঢাবির মাঠে স্বশরীরে সমাবর্তন করার সুযোগ পায়। সে হিসেবে তাদের সাথে একসাথে সমাবর্তনে সাত কলেজ অংশগ্রহণ করার অধিকার রাখে।

তবে, এটা সত্যি যে সাত কলেজে শিক্ষার্থী বেশি তাই সাত কলেজেই সমাবর্তন হোক, এতে আমাদেরও সমস্যা নাই, কিন্তু সমস্যা হলো কোন ধরনের অনলাইনের পর্দায় নয় বরং সাত কলেজ নিয়ে আলাদা সমাবর্তন হোক যেখানে অতিথিদের স্বশরীরে দেখা যাবে।

সাত কলেজ সমন্বয়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য্য বিডি২৪লাইভকে বলেন, সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা ঢাকা আগে ৫২ তম সমাবর্তনেও প্রজেক্টের মাধ্যমে অংশ নিয়েছিলো। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ তম সমাবর্তননেও সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদের সাথে আলোচনা করবো।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কয়েকগুণ হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও ঢাকা কলেজ এ কলেজ গুলোর ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা কলেজ মাঠে। এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা কলেজের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়ে ইডেন মহিলা কলেজের মাঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ।

তুহিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: