রফিকুল ইসলাম

বান্দরবন প্রতিনিধি

কারেন্ট জালের ফাঁদে মরছে শত শত পাখি

   
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

বান্দরবানের লামায় সবজি চাষীর কারেন্ট জালের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন মরছে শত শত পাখি। পাখিদের কবল থেকে চিচিঙ্গা, ঝিঙা ক্ষেত রক্ষা করতে ব্যবহার করছে অবৈধ কারেন্ট জাল।

সরেজমিনে (সোমবার সকাল) লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব শিলেরতুয়া নয়া পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মালেক এর ছেলে আব্দুল সমদ (৪২) শিলেরতুয়া বিলে প্রায় দুই একর জায়গায় চিচিঙ্গা ও ঝিঙা চাষ করেছে। ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বিভিন্ন জাতের পাখি (পেঁচা, বক, শালিক, চড়–ই, মাছরাঙা, ঘুঘু) সহ বাদুর, কীটপতঙ্গ ক্ষেতের চারপাশে আগে থেকে বেঁধে রাখা কারেন্ট জালে ধরা পড়েছে। শুধু তাই নয়, কারেন্ট জাল থেকে ছাড়া না পাওয়ায় সেখানেই ধুঁকে ধুঁকে মরছে। ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের। বিস্তীর্ণ ক্ষেতে পাতা রয়েছে কারেন্ট জালের মরণফাঁদ।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪৬), উথোয়াইছিং মার্মা (৬০) এবং মোঃ ইসমাইল (৪৫) বলেন, শিলেরতুয়া বিলে গত ১ সপ্তাহ ধরে আব্দুল সমদ তার চিচিঙ্গা, ঝিঙা ক্ষেতের চারপাশে ২০/৩০ ফুট উচু করে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে রেখেছে। প্রতিদিন শত শত পাখি, বাদুর কীটপতঙ্গ ফাঁদে আটকে মারা যাচ্ছে। স্থানীয় মেম্বার নিষেধ করার পরেও সে কারো কথা শুনছেনা। কারেন্ট জালে আটকে মরা বেশিরভাগ পাখি হচ্ছে পেঁচা, বক, শালিক ও চড়–ই পাখি।

শিলেরতুয়া নয়া পাড়ার এলাকার কালু মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন (২০), রবিউল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৯) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (১৭) বলেন, আজ সোমবার সকালেও শতাধিক পাখি কারেন্ট জালে আটকে মরে পড়ে থাকতে দেখেছি। গত এক সপ্তাহ ধরে এইভাবে পাখি মরছে। এই বিলে অনেকে সবজি চাষ করে। সমদ ছাড়া অন্য কেউ কারেন্ট জালের ফাঁদ দেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের সামান্য স্বার্থে সবজি চাষী এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সে আইনের চরম লংঘন করছে। এছাড়া অনেক উপকারী পাখিও এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অচিরেই প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম বিপর্যয় দেখা দেবে।

ক্ষেতের মালিক আব্দুল সমদ জানান, পাখিরা এসে আমার ক্ষেত নষ্ট করছে। ব্যবস্থা না নিলে আমার ব্যবসা লাটে উঠবে, তাই বাধ্য হয়ে কারেন্ট জাল বিছানো হয়েছে।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক বেলাল জানান, বিষয়টি আপনার নিকট থেকে জানলাম। পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ৩৮ ধারার ১ ও ২ উপধারার অপরাধ। উল্লিখিত কোন পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা করিলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে দন্ড দিগুণ হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তফা জাবেদ কায়সার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বন বিভাগ দায়িত্ব পালন করার কথা। তবে কৃষি অফিস ও প্রাণীসম্পদ অফিস সচেতনতামূলক কাজ করতে পারে বলে তিনি অভিমত দেন।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: