প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এহসানুল হক মিয়া

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে প্রায় ২’শ হেক্টর জমি কীর্তনাশার গর্ভে!

   
প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, ৫ অক্টোবর ২০২২

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে কীর্তনাশা (পদ্মা) নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত তিন মাসের ভাঙনে ২০০ হেক্টরের বেশী ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটা হারা হয়েছে হাজারখানেক পরিবার। অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী। ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গিগ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র।

ওই এলাকার বাসীন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত পনেরো দিনে পদ্মার ভাঙনে ওই এলাকার গোটা একটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। ভিটাহারা এসকল পরিবার কোন রকম থাকার জায়গা করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গত বছর আমি এই ওয়ার্ডে ১৪ বিঘা ফসলি জমি কিনেছিলাম। ভাঙনের কবলে পড়ে আমার সকল জমিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, এই ইউনিয়নটি পদ্মার পাড়ে হওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। প্রতিবছরই হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভিটাহারা হয় শত শত পরিবার। গত তিন মাসে পদ্মার ভাঙনে ২০০ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গাছে। হাজার খানেক পরিবার ভিটাহারা হয়েছে। এর মধ্যে একশত পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই সিএন্ডবি ঘাট এলাকাও এই ভাঙনের কবলে পড়বে। অতিদ্রুত আমাদের এই ইউনিয়নটিকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের কাছে দাবী জানাই।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী জানান, ভাঙনের সংবাদ পেয়ে আমি ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যারের নির্দেশে এখানে এসেছি। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করেছি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তাছাড়া যাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য তালিকা তৈরী করতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন সকল প্রকার সহযোগীতা নিয়ে ভাঙন কবলিতদের পাশে রয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: