প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন অর রশিদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি

   
প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, ৫ অক্টোবর ২০২২

পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ হয়নি। গত রোববার (২ অক্টোবর) রাতে তদন্ত কমিটি তাদের ১১৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব দীপঙ্কর রায় তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নৌকাডুবিতে ৬৯ জনের মৃত্যু এবং এখনো দুইজন পুরুষ একজন শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌকাডুবির জন্য দায়ী কে জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল পঞ্চগড়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সহ পুরো পঞ্চগড় বাসী। কিন্তু এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

তবে গত সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহয়তা হস্তান্তরের একটি অনুষ্ঠানে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক নৌকাডুবির কিছু কারন উল্লেখ করেন। সেগুলো হচ্ছে শর্ত ভঙ্গসহ ইজারাদারদের যথাযথ ভূমিকা না রাখা, মাঝিদের অদক্ষতা পারাপারে ত্রুটিপূর্ন নৌকা ব্যবহার, স্থানীয় জনসাধারনের ধর্মীয় অনুভুতি। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন আরও দুটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনো দাখিল হয়নি। সেই রিপোর্ট দাখিলের পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তার মধ্যে একটি ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।

এ সময় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ঘাট ইজারাদার, অদক্ষ মাঝি, ধর্মীয় অনুভূতি এবং উপস্থিত সকলের অসচেতনার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসও দুটি তদন্ত টিম গঠন করেছে। রিপোর্ট দাখিল হবার পর সরকারের নিকট থেকে যে নির্দেশনা আসবে তা পরবর্তিতে জানানো হবে এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে পঞ্চগড়ের নৌকাডুবির ঘটনায় এগারতম দিনেও উদ্ধার অভিযান চলেছে। কিন্তু এখনো নিখোঁজ কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সীমীত আকারে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন নিখোঁজ ব্যাক্তিদের মরদেহ সম্ভবত নদীর বালি বা মাটির নিচে চাপা পড়ে যেতে পারে। এজন্য মরদেহগুলি পওয়া যাচ্ছেনা। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। বোদা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার শাহজাহান আলী জানান, অভিযানে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নাই। মাটি এবং বালির নিচে মরদেহগুলো চা পড়ে যেতে পারে। এ জন্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু এখনো পুরো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আশংকাও সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝেও এই প্রতিবেদন সরবরাহ করা হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা এই প্রতিবেদন চাইলেও তা এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক। কি আছে এই তদন্ত প্রতিবেদনে তা জানতে না পারায় সর্বমহলে এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক দীপঙ্কর কুমার রায় জানান, এলাকার ভৌগলিক পরিস্থিতি এবং নদী কেন্দ্রী জীবন জিবীকাকে উল্লেখ করে ১১৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন কি কারনে নৌকাডুবি হয়েছে এজন্য ৮ থেকে ১০টি কারন উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে বোদেশ্বরী মন্দির কমিটির সভাপতি নীতিশ কুমার বকশি ওরফে মুকুল বকশি জানান ঘটনার দিন অনুষ্ঠানের আগে ইজারাদার সহ সংশ্লিস্ট কমিটির সকলকে ৬ টি নৌকা ঘাটে মজুদ রাখার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু ইজারাদার তা করেননি। অনেকক্ষন অপেক্ষার পরও বাকি নৌকাগুলো না আসায় একটি নৌকাতেই উঠে ঘাট পার হওয়ার চেস্টা করেন পূর্ন্যার্থিরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ ঘাটে সজাগ থাকলে এমন দূর্ঘটনা এড়ানো যেত।

এদিকে ঘটনার দিন থেকে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রান তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ ও রেলপথমন্ত্রী এডভোকেট নূরুল ইসলাম সূজন ঘটনার দিন থেকেই নিহত পরিবারের সার্বক্ষনিক খোঁজ খরব নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় ও পাশ্ববর্তী জেলার কয়েকজন সাংসদ সহ আরও তিনজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ ও ত্রান সহায়তা দিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পঞ্চগড় আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ও পঞ্চগড় বারের সিনিয়ার আইনজীবী এ কে এম আনোয়ার ইসলাম খায়ের মনে করেন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে রাস্ট্রের কোন গোপনীয়তা ফাঁস এবং রাস্ট্রের কোন ক্ষতি হবেনা। আসলে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন প্রশাসনের কোন দূর্বলতা থাকলে সেটিও প্রকাশ করা উচিত। যেহেতু দেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম নৌ দূর্ঘটনা এজন্য এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে আইনগত কোন বাধা নেই বরং তথ্য অধিকার আইনে জনগনের জানার অধিকার রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান তদন্ত প্রতিবেদন আমার কাছে দাখিলের পর সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমি গত সোমবার তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ সাংবাদিকদের সামনে বলেছি। উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে আরও তদন্ত রিপোর্ট যাবে সেখানে চুলচেরা বিশ্লেষন হবে তারপর সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাকিল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: