প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচনে পুরোপুরি ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা ইসির

   
প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, ১২ অক্টোবর ২০২২

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাদের আরপিও ৯১ ধারা অনুযায়ী কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয়, ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে না তাহলে ভোট আমরা বন্ধ করে দিতে পারি। এ আইনের মধ্যে থেকে গাইবান্ধা -৫ উপনির্বাচনের পুরোপুরি ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিইসি বলেন,আমাদের কাছে মনে হয়েছে ভোটগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, একটি পক্ষ বা একজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী প্রভাবিত করতে পারছে। আমাদের দৃষ্টিতে মনে হয়েছে-সুষ্ঠু নির্বাচন গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা পরিশেষে এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি-সমগ্র কন্সটিটিউয়েন্সি পুরো নির্বাচন গাইবান্ধা-৫ নির্বাচনী এলাকার ভোট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। সে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (রিটার্নিং কর্মকর্তাকে)।

সিইসি বলেন, সকালে ভোট শুরু হয়। নির্বাচন ভবনে সিসি ক্যামেরায় ভোট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। আমরা সবশেষ ভোট পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ্য করেছি-ভোট গ্রহণে অনিয়ম হচ্ছে এবং অনেক কক্ষে গোপন কক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করেছি।

অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন তিনি বলেন,অবৈধভাবে প্রবেশ কতরে ভোটারকে ভোট প্রদানে সহায়তা বা বাধ্য করছে-এটা সুস্পষ্ট লক্ষ্য করেছি। যেটি নিয়ম নয়। তারপরেও আমরা দেখেছি-পোলিং এজেন্ট সম্ভবত তাদের অনেকের গায়ে যে পোশাক সেখানে প্রতীক ছাপানো ছিল। মেয়েদের একই রকমের শাড়ি, ওড়না ছিল যেটা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, অনিয়ম যেটা দেখছিলাম-আমাদের সহকর্মীরা সকাল আটটা থেকে নির-বিচ্ছিন্নভাবে দেখেছি; কেউ কক্ষ ত্যাগ করেন নি। এটা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং অনিয়মগুলো বা ম্যাল প্র্যাকটিসেসগুলো মোটা দাগে হচ্ছিল।

যার ফলে আমরা উপস্থিত থেকে প্রথমে তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছি। এরপরে ১৬টি কেন্দ্রে, তৃতীয় দফায় ১২টি; চতুর্থ দফায় ৯টি এবং সব শেষ আরও তিনটি-৪৩ টি ভোট কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিয়ে সাড়ে ১২ টায় কক্ষ ত্যাগ করি।এরপর আমাদের অফিসাররা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ছিল। আমরা লক্ষ্য করলাম- কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হল। যার ফলে আমরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারছিলাম না।উনারা কিছু কিছু কেন্দ্রে আরও সাতটি মিলিয়ে- মোট ৫০টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করেছি।রিটার্নিং অফিসারও একটি কেন্দ্রের ভোট কেন্দ্র বন্ধ করে। এনিয়ে মোট ৫১টি এর আগে ৫১টি মতো কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি বলেন,আমরা কমিশনের সব সদস্য মিলে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে থাকি, বিশ্লেষণ করতে থাকি। আমরা নিশ্চিত হয়- ৫০টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ হয়ে গেলে বাকি কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ, ফলাফল-সব বিবেচনা করলেও আসলে সঠিক মূল্যায়নটা হবে না। সিইসি বলেন, আমাদের আরপিও ৯১ ই ধারা অনুযায়ী কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয়, ভোট সঠিকভাবে হচ্ছে না তাহলে ভোট আমরা বন্ধ করে দিতে পারি।

ভোটগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বরাত দিয়ে তিনি বলেন,আমাদের কাছে মনে হয়েছে ভোটগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, একটি পক্ষ বা একজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী প্রভাবিত করতে পারছে। আমাদের দৃষ্টিতে মনে হয়েছে-সুষ্ঠু নির্বাচন গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ৫১টি ভোট কেন্দ্র বাতিল হয়ে যাওয়ার পর আইন কানুন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম-৯১ অনুচ্ছেদ যে দায়িত্ব ইসিকে দেওয়া হয়েছে, ইসির কাছে এটা প্রতীয়মান হয় নির্বাচন সঠিকভাবে হচ্ছে না। যে কোনো কেন্দ্রে বা পুরো সংসদীয় আসনের ভোট কমিশন বন্ধ করে দিতে পারবে। ওখানে এখন আর ভোট হচ্ছে না। পরবর্তীতে বিধি বিধান অনুযায়ী কি করতে হবে দেখব। কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবো।

এর আগে আজ সকালে নির্বাচন বন্ধ করবেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমরা সিদ্ধান্ত নেবো যে কমিশন যদি মনে করি নির্বাচন সঠিক ভাবে হচ্ছে না তাহলে কমিশন নির্বাচন বন্ধ করতে পারে। আমরা সেই আলোকে নিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এবং চূড়ান্ত সুদ্ধান্ত যখন নেবো, তখন জানাবো। নিয়ন্ত্রণের বাইরে কেন চলে গেল তা আমরা বলতে পারবো না। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে অনেকটাই। আপনারাও দেখতে পেয়েছেন যে গোপন কক্ষে হচ্ছে, এবং সুশৃঙ্খলভাবে হচ্ছে না। কেন হচ্ছে এমন তা চটজলদি বলতে পারবো না। এসময় ইসি আনিছুর রহমান ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ,গাইবান্ধা – ৫ আসনের উপ নির্বাচনে নির্বাচনি এলাকার ১৪৫ টি ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ২ টি এবং প্রতিটি ভোটকক্ষের ভিতর (গোপন বুদ্ধের দৃশ্য ব্যতিত) ৯৫২টি সহ সর্বমোট ১২৪২ টি সিসিক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া ভোটের দিন ও ভোটের আগের দিনের দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকাস্থ নির্বাচন ভবনে একটি পর্যবেক্ষণও কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।

নাঈম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: