দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ হওয়া কোন্দল জাতীয় ফসল কাসাভা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রাণ এর চুক্তিভিত্তিক চাষীরা। একই সাথে আগামী বছরের জন্য কাসাভার বীজ রোপনও করছেন তারা। কাসাভা হচ্ছে শিকড়জাত এক ধরনের আলু যা পাহাড়ি, অনাবাদী এবং অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে চাষ হয়। দেশে এটি শিমুল আলু নামে পরিচিত।
পাঁচ হাজারের বেশি একর জমিতে চাষকৃত জমি থেকে এবার কাসাভা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’ সরাসরি মাঠ থেকে এসব কাসাভা সংগ্রহ করছে। এবার প্রাণ এর কাসাভা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন।

এ বিষয়ে প্রাণ এর কন্ট্রাক ফার্মিং বিভাগের হেড কামরুজ্জামান টিটো বলেন, “রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভিবাজার, টাঙ্গাইল ও কুমিল্লা জেলায় প্রাণ এর চুক্তিভিত্তিক কৃষকরা পাহাড়ি ও অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতে কাসাভা চাষ করেছেন। গত বছর ৪৮২২ একর জমি থেকে আমরা ২৯ হাজার টন কাসাভা সংগ্রহ করতে পেরেছি। এবার লক্ষ্যমাত্রা একর প্রতি ৭ টন ফলন পাওয়া।
তিনি আরও বলেন, নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত কাসাভা সংগ্রহ ও রোপন দুটোই একসাথে হয়। কৃষকরা কাসাভার ফসল তোলার পরপরই এর বীজ রোপন করে। ক্রমেই দেশে একর প্রতি কাসাভার ফলন বেড়ে যাওয়া এবং কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এছাড়া কন্দাল জাতীয় ফসলের উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ এই ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে”।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, সারাদেশে থেকে কাসাভা সংগ্রহ করার পর প্রাণ এর “হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নত মানের স্টার্চ তৈরি করা হয়। স্টার্চ থেকে গ্লুকোজ, বার্লি, সুজি, রুটি, নুডলস, ক্র্যাকার্স, কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, পাঁপর, চিপসসহ নানাবিধ খাদ্য তৈরি করা যায়। বস্ত্র ও ঔষুধ শিল্পে ব্যাপকভাবে কাসাভার স্টার্চ ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সাল থেকে প্রাণ কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর মাধ্যমে কাসাভা চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অব্যবহৃত পাহাড়ি জমির যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে। প্রাণ চাষীদেরকে কাসাভা চাষের প্রশিক্ষণ, আর্থিক প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ সহায়তা এবং স্বল্পমূল্যে বীজ দিয়ে সহায়তা করছেন। এর ফলে পাহাড়ি অনাবাদী জমিতে কৃষকের কাসাভা চাষে আগ্রহ বাড়ছে”।
সর্বশেষ খবর