
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দফতরে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশন। বিশ্বের প্রায় সবগুলো সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এতে অংশ নেবেন। উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য— “বেটার টুগেদার: এইট ইয়ার্স অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।”
গত মে মাসের চার দিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একই দিনে অধিবেশনে উপস্থিত হবেন। ওই দিনই ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আনালেনা বায়েরবোক। উদ্বোধনী দিনে সভাপতির বক্তব্যের পাশাপাশি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।
এবারের অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট, বৈশ্বিক দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপও আলোচনায় আসবে।
প্রথা অনুযায়ী প্রথম বক্তৃতা করবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। এরপর বক্তব্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতিসংঘে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ। পাকিস্তান ও ভারতের পর একই দিনে ভাষণ দেবেন ইসরাইল, চীন এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দেবে, অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু ও আঞ্চলিক শান্তিকে সামনে আনবে। এক জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কূটনীতিক বলেছেন, “বিশ্ব ইতোমধ্যেই দেখেছে কীভাবে দক্ষিণ এশিয়া মুহূর্তেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। কাশ্মীর সমস্যার ন্যায্য সমাধান ছাড়া জাতিসংঘের শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের অধিবেশনটি হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ব্যস্ত কূটনৈতিক মৌসুম। একদিকে গাজায় যুদ্ধ, অন্যদিকে ইউক্রেন সংঘাত এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার প্রভাব— সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিতিশীলতা বিশেষভাবে আলোচনায় আসবে।
তথ্যসূত্র: ডন
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর