জয়পুরহাট-২ আসনে (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর বাজারে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
সদ্য মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সচিব আব্দুল বারীকে ‘অতিথি পাখি’ আখ্যা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ‘অতিথি পাখি বারীকে চাই না’ বলে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন মাঠে থেকে বিএনপির জন্য কাজ করা পরীক্ষিত নেতা গোলাম মোস্তফাকে বঞ্চিত করে বহিরাগত অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাকে রাজনৈতিক মাঠে কখনো দেখা যায়নি, এমনকি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামেও অংশ নেননি। তিনি ‘অতিথি পাখির মতো’ হঠাৎ এলাকায় এসে মনোনয়ন পেয়ে গেছেন, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি চরম অবমূল্যায়ন। বিক্ষোভ মিছিলে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ বকুলের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নুর ইসলাম নুহু মেম্বার, নুরু মেম্বার, যুবনেতা শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান গোল্লা, বিএনপি নেতা সেকিন্দার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির রানাসহ ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে নেতারা বলেন, জয়পুরহাট-২ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। তাকে রাজনৈতিক মাঠে আমরা কোনোদিন দেখিনি। তিনি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। দুর্দিনে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এলাকায় আসেননি।
কেউ তাকে চেনেনও না। হঠাৎ তিনি ‘অতিথি পাখির’ মতো আবির্ভূত হয়েছেন। কেন্দ্র তাকে কীভাবে মনোনয়ন দিয়েছে আমাদের বোধগম্য হয় না। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ বকুল বলেন, আমরা এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশে আন্দোলনে গিয়েছিলাম। সে সময় পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করেছিল।
তখন বারী সাহেব ঢাকাতেই ছিলেন। কিন্তু তিনি নেতাকর্মীদের কোনো সাহায্য করেননি। রাজশাহী মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে আরো মনোনয়ন প্রত্যাশি ওবায়দুর রহমান চন্দন, সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, আব্বাস আলীসহ আমাদের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ছিল। কিন্তু তিনি কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। তিনি সম্পূর্ণ একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোনো প্রার্থীর পক্ষ-বিপক্ষে বিক্ষোভ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এরপরেও যদি কেউ এ ধরনের কার্যক্রমে লিপ্ত হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মী ও সমর্থকদের করা বিক্ষোভের বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর