• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২২ মিনিট পূর্বে
আরিফ জাওয়াদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৪ রাত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে শোকসভা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ওই শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সূচনা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

শোকসভা কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর ‘শিক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শোকসভা সঞ্চালন করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

এর আগে, মিলনায়তনের বাইরে স্থাপিত শোকবই উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরের জন্য শোকবই আগামী তিনদিন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে রাখা থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক বিরল প্রতীক। যিনি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে এদেশের মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, মরহুমার জানাজায় সারাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁর ঐক্য সৃষ্টির সক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রমাণ।

উপাচার্য জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা, সাহিত্যকর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সাংবিধানিক শাসন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি আপসহীন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। এসময় তিনি একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং সেটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

শোকসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। যার ফলে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহানুভূতি ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে অবিচল এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস সংগ্রামী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার উন্নয়ন হয়েছে। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও বাধার মুখেও তিনি আপস করেননি এবং দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, তিনি ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জননী এবং দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং গণতন্ত্রের জন্য অমর অবদান রেখেছেন। অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ‘বেগম খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল এ্যাওয়ার্ড ফর একাডেমিক এক্সিলেন্স’ চালু করার প্রস্তাব করেন।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা, ভিশন-২০৩০ প্রণয়ন এবং সংকটকালে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল অসামান্য। দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁকে বারবার নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, তবে তিনি কখনো আপস করেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দরিদ্রতা হ্রাস, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশের নারীরা কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছে। এই সময় তিনি এসিড নিক্ষেপ বন্ধে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের করা আইনের প্রশংসা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে আপসহীন নেতা। একজন গৃহিনী থেকে তিনি ক্রমেই আপসহীন নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষার বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও শারীরিক কষ্টের মধ্যেও তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন এবং দেশের জনগণের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে সুসংগঠিত করে জনগণের ভোটাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রীর প্রয়াণে দেশ এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবককে হারিয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এদেশের মানুষের হৃদয়ে অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং স্মরণসভা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিনয়ী, শালীন ও ব্যতিক্রমধর্মী এক নেতৃত্ব। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজকে বিশেষ মর্যাদায় ধারণ করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংকটকালে দৃঢ়তা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। যাঁর জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালোবাসা ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজায় প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর প্রজ্ঞা, অমায়িক আচরণ ও আপসহীন গণতান্ত্রিক চেতনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তিনি কারাবন্দি অবস্থায়ও বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোবল ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গৃহিণী থেকে উঠে এসে গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। যাঁর দেশপ্রেম ও সততা সর্বজনস্বীকৃত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। আমরা তার স্মৃতিতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আপসহীন এক আদর্শিক নেতৃত্বের প্রতীক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম আমাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় পথপ্রদর্শক। আমরা তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী। তাঁর নৈতিকতা ও দেশপ্রেম আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।

এছাড়া এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট-সিনেট সদস্য, হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]