ইরানের রাজধানী তেহরানে দাঙ্গাকারীদের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এক এজেন্টকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সোমবার একটি বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, এই অজ্ঞাতনামা মোসাদ এজেন্টটি দাঙ্গাকারীদের মধ্যে গোপনে কাজ করছিল। গত কয়েকদিন ধরে সে দাঙ্গাবাজ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করে আসছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আটক ব্যক্তি তার স্বীকারোক্তিতে মোসাদের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে।
সে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একটি জার্মানিভিত্তিক সংস্থার মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং পরে তাকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা সরাসরি মোসাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
আটক এজেন্ট জানায়, ইনস্টাগ্রাম এবং টেলিগ্রামে লোকজনদের সক্রিয়তা ও লাইক দেখে চিহ্নিত করা হতো। তাদের বলা হতো, যেকোনো কাজ করলে সাহায্য দেবে।
তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোন সরঞ্জাম কিনতে হবে এবং কীভাবে তৈরি করতে হবে। এরপর বাজারে গিয়ে স্লোগান দিতে, ভিডিও রেকর্ড করে তার হ্যান্ডলারদের পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু পরে বলা হয়েছে, আর বাজারে যাওয়ার দরকার নেই।
সে আরও বলেছে, তার হ্যান্ডলাররা মোবাইল ফোন দিয়ে তাকে নজরদারি করতো। সব প্রশিক্ষণ ফোন কল এবং মেসেজে হয়েছে। ফোনের সিগন্যাল দিয়ে তার অবস্থান ট্র্যাক করা হতো। তার ভাষায়, “আমি এখন সবকিছু জেনে গেছি। তারা আমার মতো একজনকে খুঁজছিল।”
এদিকে, ইরান পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদরেজা রাদান গতকাল (রোববার) বলেছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় অনলাইনে ও মাঠে অস্থিরতা উসকে দেওয়া মূল হোতাদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিত অভিযান চালিয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া এসব ব্যক্তি বিদেশ থেকে ডলারে অর্থ পেতেন এবং সেই অর্থের বিনিময়ে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতেন।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ থেকে জাতীয় মুদ্রার মূল্যহ্রাসের পর ইরানের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্রুত এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে এবং জাতীয় নিরাপত্তা দুর্বল করতে প্রশিক্ষিত এজেন্ট মোতায়েন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাঙ্গাকারীদের সমর্থনে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হুমকি দেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার তারা স্বীকার করে। তবে একই সঙ্গে তারা জনগণকে বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা ও সহিংসতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি শনিবার বলেন, যেসব প্রতিবাদকারীর ন্যায্য দাবি রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপ হওয়া উচিত। তবে যারা দাঙ্গা ও সহিংসতায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
ইরান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সোমবার বলেছেন, জনগণের প্রতিবাদ শোনা উচিত। কিন্তু বিদেশি গুপ্তচর সংযুক্ত লোকজন যারা প্রতিবাদকে দাঙ্গায় রূপান্তরিত করতে চায়, তাদের আলাদাভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জুন মাসের ১২ দিনের আক্রমণে হেরে এই প্রতিবাদকে কাজে লাগাচ্ছে।
সূত্র- পার্সটুডে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর