সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে একটু বাইরে হাঁটা বা দৌড়ানোর চেয়ে ভালো শুরু আর কিছু হতে পারে না। আজকাল অনেকেই ব্যস্ত জীবনযাপনে ফিট থাকা বা সুস্থ থাকার জন্য বিশেষ সময় দিতে পারে না। কিন্তু শুধু সকালে সামান্য সময় বের করে হাঁটা বা দৌড়ালেই শারীরিক ও মানসিক অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মকালের তুলনায় শীতকালে আপনাকে একটু বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা শীতকালে ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা কমতে পারে, পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পেশি খিঁচুনি বা চোটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি ঠান্ডা বাতাস গলা ও ফুসফুসকেও আক্রান্ত করতে পারে, বিশেষ করে যারা হাঁপানি, এলার্জি বা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে। সেজন্য সকালে হাঁটা বা দৌড়ানোর আগে যেসব বিষয়ে সর্তক থাকবেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো:
বের হওয়ার আগে হালকা ব্যায়াম করুন:
সকালে বাইরে বের হওয়ার আগে নিজ বাসায় কমনরুমে কিংবা আপনার রুমে হালকা স্ট্রেচিং, জাম্পিং জ্যাক বা দ্রুত হাঁটা-চলা মতো ব্যায়াম করলে শরীর গরম করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাংসপেশি নরম রাখে, যা চোটের ঝুঁকি কমায়।
শীতের পোশাক ঠিকমতো পরুন:
হালকা কিন্তু উষ্ণ টাইপের পোশাক পরুন, যাতে শরীরের তাপমাত্র বজায় থাকে। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে কান, মাথা ও হাত ঢেকে রাখুন। তবে যদি আবহাওয়া খুব কুয়াশাচ্ছন্ন বা ঠান্ডা হলে সূর্য ওঠার পর হাঁটুন বা দৌড়ান।
দূষণ ও ঠাণ্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষা:
শীতে প্রায়ই দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করুন। সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
ধীরে ধীরে শীতল হন:
সকালে দৌড়ানো বা হাঁটার পর তাৎক্ষণিক পোশাক পোশাক পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শীতল হতে ৫–১০ মিনিট সময় দিন।
পানি পান করুন ও সঠিক খাবার খান:
শীতকালে শরীর ঘাম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে পানির ক্ষতি করে। হাইড্রেটেড থাকতে হাঁটার আগে ও পরে পানি পান করুন। ব্যায়ামের পর প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
অন্য আরও পরামর্শ:
খুব ঠাণ্ডায় খালি পেটে হাঁটা বা দৌড়ানো এড়িয়ে চলুন।
সূর্য ওঠার পরে ব্যায়াম করা ভালো।
হাঁটার পরে হালকা স্ট্রেচ করুন।
অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর