ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ও সেই তেলের আয় কীভাবে ব্যবহার হবে, তা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলা–সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও কোস্ট গার্ড।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই তেলের বিক্রি, পরিবহন এবং আয়ের ব্যবহার পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
বুধবার উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারসহ মোট দুইটি ভেনেজুয়েলা–সম্পর্কিত জাহাজ আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে জড়িত ছিল এবং তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এই বহর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নিয়মিতভাবে পতাকা পরিবর্তন, ভুয়া নথি এবং গোপন রুট ব্যবহার করে থাকে। জব্দ করা রুশ পতাকাবাহী জাহাজটি উত্তর আটলান্টিকে আটক করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এই ঘোষণার কয়েক দিন আগেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। আলোচনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
ভেনেজুয়েলার তেল বিশ্বের বৃহত্তম মজুতগুলোর একটি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ শুধু ভেনেজুয়েলার ওপর নয়, বরং লাতিন আমেরিকা ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র- আলজাজিরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর