কাজের চাপে বা একঘেয়েমিতে হঠাৎ ঘুম পাওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় রাতের পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা দুপুরের ভারী খাবারের পর এই ক্লান্তিবোধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
তবে কিছু সহজ অভ্যাস ও কৌশলের মাধ্যমে কাজের জায়গায় নিজেকে সতেজ ও চনমনে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন থাকলে দ্রুত ক্লান্তিবোধ ও ঘুম আসে। তাই অফিসে ক্লান্তি অনুভব করলে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করা বেশ কার্যকর, যা শরীরকে তাৎক্ষণিক সতেজতা দেয়।
কাজের মধ্যে ঝিমুনি কাটাতে হালকা নড়াচড়া বা শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা কিংবা ডেস্কে বসেই হালকা স্ট্রেচিং করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের জড়তা কাটাতে সাহায্য করে।
এছাড়া একটানা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যা ঘুমের উদ্রেক করে। এক্ষেত্রে ‘২০-২০-২০’ নিয়মটি বেশ কার্যকর।
অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশি আরাম পায় এবং ক্লান্তি কমে।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। দুপুরে অতিরিক্ত ভাত বা ফাস্টফুডের মতো ভারী খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে অলসতা চলে আসে। এর বদলে বিকেলের দিকে বাদাম, ফল বা দইয়ের মতো হালকা স্ন্যাক্স খাওয়া ভালো।
এছাড়া ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ কফি বা গ্রিন টি সহায়ক হতে পারে, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। যখন খুব বেশি ঘুম পায়, তখন কয়েকবার গভীরভাবে শ্বাস নিলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে এবং মাথা পরিষ্কার হয়।
একই ধরনের কাজ দীর্ঘক্ষণ করলে একঘেয়েমি থেকে ঘুম আসতে পারে। সেক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে ফেলা বা সহকর্মীর সাথে কিছুক্ষণ কাজের বিষয়ে আলাপ করা যেতে পারে।
তবে সর্বোপরি রাতে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
যদি এই সব নিয়ম মেনে চলার পরেও প্রতিদিন অফিসে অতিরিক্ত ঘুম আসে, তবে তা রাতের ঘুমের ঘাটতি, হজমের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
এমন অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর