যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে অভিযান আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যদি সাধারণ মানুষ হত্যার শিকার হয়, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোরভাবে’ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘হ্যানিটি’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার।
মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “জলপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় ৯৭ শতাংশ মাদক আমরা ঠেকাতে পেরেছি। এখন আমরা স্থলপথে অভিযান জোরদার করতে যাচ্ছি।”
তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো কার্যত মাদক কার্টেলদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।
মাদুরো গ্রেপ্তার ও ভেনেজুয়েলা অভিযান
ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,“মাদুরোর বাসভবন ছিল একেবারে একটি দুর্গের মাঝখানে। হাজার হাজার সেনা সেখানে অবস্থান করছিল। কিন্তু আমরা একটিও প্রাণহানি ছাড়াই অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত কিউবান সেনাদের বড় একটি অংশ নিহত হয়েছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করতে চাননি।
‘ডনরো ডকট্রিন’ ব্যাখ্যা
ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থকদের দেওয়া নাম ‘ডনরো ডকট্রিন’ নিয়েও কথা বলেন। এটি মূলত ঐতিহাসিক মনরো ডকট্রিনের আধুনিক রূপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়,“আমরা চাই না মাদক আমাদের দেশে ঢুকুক। আমরা চাই না খারাপ লোকেরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসুক।”
এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, বাইডেনের সময় সীমান্ত পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।
কিউবা-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক ও তেল চুক্তি
ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সহায়তা ছাড়া কিউবা টিকে থাকতে পারবে না। কিউবা তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য পুরোপুরি ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া মাদুরো অপসারণের পর ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সব দাবি মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা।
তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে আসা আয় দেশটির জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এই তেলের মূল্য “বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার” বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন
ট্রাম্প জানান, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১৪টি তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এসব কোম্পানি ভেনেজুয়েলার পুরো তেল অবকাঠামো নতুন করে গড়ে তুলবে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গ
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। যদিও সরাসরি পুরস্কার গ্রহণ করবেন কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি ট্রাম্প, তবে একে “বড় সম্মান” হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন। আগামী সপ্তাহে মাচাদো হোয়াইট হাউস সফর করবেন।
ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, অতীতে ইরানের সরকার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং অনেককে কারাগারে নিয়ে ফাঁসি দিয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন,“যদি তারা আবার সাধারণ মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা প্রস্তুত আছি।”
ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাধারণ জনগণের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবে না।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর