কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত কয়েক দিন থেকে রাতে শীত আর দিনে গরম আবহাওয়ার পর বুধবার দিবাগত মধ্যে রাতে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলেছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে স্বতি নেমে এসেছে কৃষকের মনে। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কাংখিত বৃষ্টিতে কৃষক লাভবান হয়েছেন। দমকা হাওয়ায় সামান্য কিন্তু উঠতি ফসল ও পাকা গম মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টা ও বেগুন খেতে পর্যাপ্ত সেচের কাজ করেছে বৃষ্টি।
এছাড়াও গাছের পাতায় জমে থাকা ধুলা বৃষ্টির পানিতে পরিস্কার হয়েছে। এতে সালক সংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারবে। ফলে দ্রুত গাছের পাতা তৈরি হবে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ দমকা হাওয়া আর বৃষ্টি শুরু হয়। টানা প্রায় ঘন্টা খানেক অনবরত পড়তে থাকে বৃষ্টি। কিছুক্ষণ বৃষ্টি থামার পর সেহেরির ঠিক আগ মুহূর্তে ফের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সাথে আকাশে ঘন কালো মেঘের গুড় গুড় শব্দের সাথে প্রচন্ড বিদ্যুৎ চমকায়। এসময় অনেকের ঘুম ভেঙে যায় এবং বেশ উপভোগ করেন বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ।
বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেহরিতে খানিকটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে স্বতি নেমে আসে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মনে। বৃষ্টি স্নাত ধুলা বালিহীন এক নির্মল ভোর দেখতে পায় উপজেলাবাসী। এদিকে বৃষ্টির সাথে প্রচন্ড বিদ্যুৎ চমকালেও কোথায় কোন বজ্রপাতের ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জন তাদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে পোস্ট করেন।
বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক রফিকুল হাসান রঞ্জু মধ্যে রাতে বৃষ্টি পড়ার দৃশ্যের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, "বৃষ্টি এলো ভাংগা চালে জল চুঁইয়ে উঠান ভরে গড়গড়িয়ে পথের ধুলায় হুরমুড়িয়ে"। মো. মনিরুজ্জামান নামের একজন লিখেন " যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের উপর অন্যায় হামলার কারণে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে। ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে সময়মত জমিতে সেচ দিতে পারছে না কৃষক। ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে। এতে জমিতে কয়েকদিন সেচ না দিলেও চলবে। ততদিনে জ্বালানি তেলের সংকটও কমবে।
দুধকুমার নদের পাড়ে হেলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হক জানান, ডিজেল সংকটের কারণে গত তিন দিন থেকে ধানের খেতে পাই দিতে পারি নাই। গত রাতে হঠাৎ খুব বৃষ্টি হয়েছে। সকালে গিয়ে দেখি জমিতে পানি জমেছে। আগামী কয়েকদিন পানি দেওয়া লাগবে না। এটা আল্লাহর রহমত। মনে খুব শান্তি লাগতেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, এ বৃষ্টি কৃষকের বহু কাঙ্ক্ষিত ছিল। এতে কৃষক অনেক খুশি। বিশেষ করে, যেসব উঁচু জমিতে প্রতিদিন সেচ দিতে হয়, সে জমির জন্য খুবই উপকার হয়েছে। দমকা হাওয়ায় সামান্য কিন্তু উঠতি ফসল ও পাকা গম মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টা ও বেগুন খেতে পর্যাপ্ত সেচের কাজ করেছে বৃষ্টি। হেলে পড়া গম খেতে যাতে পানি আটকে না থাকে সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর