রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক শুটারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে কাওরান বাজার এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তার করেন মোসাব্বির। ভ্যানস্ট্যান্ডসহ অন্তত ৪০০ দোকানের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এ নিয়ে একাধিক পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কারামুক্ত হয়ে বিদেশে অবস্থান করা এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে চুক্তি করে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহর ছেলে মো. বিল্লালের মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ডিবির তথ্যমতে, পুরো হত্যাকাণ্ডের জন্য ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এর মধ্যে শুটার জিন্নাতকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বেকার থাকায় অর্থের লোভে সে হত্যাকাণ্ডে রাজি হয়। হত্যার আগে কয়েক দিন ধরে মোসাব্বিরের চলাফেরা, আড্ডার স্থান ও সময় নিয়মিত রেকি করা হয়। এই কাজে সহায়তা করে বিল্লাল, তার চাচা আব্দুল কাদির এবং ভাই মোহাম্মদ রিয়াজ। গুলি চালানোর দায়িত্ব ছিল জিন্নাত ও তার ভাই রহিমের ওপর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বুধবার সন্ধ্যার পর কাওরান বাজারের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসান উল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করে তারা। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে মোসাব্বির ওই গলিতে প্রবেশ করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হত্যার পর তারা দ্রুত এলাকা ছাড়ে এবং মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়।
ঘটনার অগ্রগতি জানাতে গতকাল বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে জিন্নাত, মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির ও মোহাম্মদ রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি মোসাব্বিরের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনাও হত্যার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং আরেক শুটার রহিম এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবি প্রধান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং শিগগিরই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর