বরিশাল সদর আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে চূড়ান্ত বোঝাপড়ার বিষয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও। বিভাগীয় সদরের এই আসনটি কোনো অবস্থাতেই ছাড় দিতে রাজি নয়। এমন অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ই। উভয় দলের প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং দু’পক্ষের মনোনয়নপত্রই বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এমনকি অসমর্থিত একটি সূত্রের খবরে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা টেকসই না হলে ‘জোটের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপরই ছেড়ে দেওয়া’র কথাও বলা হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও জোটকে শক্তিশালী করার নীতিতে তারা সচেষ্ট থাকলেও জোট শরিক সব দলকেই ‘বাস্তবতা উপলব্ধি করে সমঝোতা টিকিয়ে রাখা’র ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের মূল জটিলতা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই বিরাজ করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আর ১১ দলীয় জোটের সমঝোতার এই জটের কয়েকটি কারণের মধ্যে বরিশাল সদর আসনটিই এখনো অন্যতম জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আছে। শুরু থেকেই উভয় দলই এই আসনটি দাবি করলেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে প্রথমে ৩৯টি এবং পরে ৪৩টি আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তার মধ্যে বরিশাল সদর আসনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে কেউই স্পষ্ট করছেন না। তবে বরিশাল সদর আসন নিয়ে এখনো উভয় দলের মধ্যেই টানাপোড়েন চলছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৯১ সাল থেকে বরিশাল সদর আসনে নির্বাচন করে আসলেও কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনেই সুবিধা করতে পারেনি। এমনকি ২০০১ সালের নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেও কোনো সুফল মেলেনি। ২০০৭ সালে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও পরবর্তীতে পাতানো নির্বাচনের ফাঁদে পা দিয়ে দলটির গায়ে ‘আওয়ামী লীগের অঘোষিত মিত্র’ তকমা লাগে।
এমনকি ২০২৩ সালের মূল বিরোধীদলবিহীন বরিশাল সিটি নির্বাচনে আবার সরকারের ফাঁদে পা দিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে দলীয় প্রার্থী আওয়ামী লীগের এক ছিচকে মাস্তানের হাতে নিগৃহীত হলে দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। পাশাপাশি অবশিষ্ট দুটি সিটি নির্বাচনও বয়কট করে ইসলামী আন্দোলন। ওই নিগ্রহের ঘটনার পরই ইসলামী আন্দোলন ২০২৪ সালের আরেকটি পাতানো নির্বাচনী ফাঁদে আর পা দেয়নি।
জামায়াতে ইসলামীও ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বরিশাল সদর আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনো সুফল পায়নি। এরপর তারা ২০০১ ও ২০০৭ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট হিসেবে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয়। সেখানে পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও বরিশাল সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান সারোয়ার ভোটের দিন সকাল ৯টার মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে সকাল ১১টায় বর্জনের ঘোষণা দেন।
তবে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী—কারোর জন্যই অতীতে বরিশাল সদর আসনে অনুকূল পরিবেশ ছিল না।
এরপরও ১১ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিকই বরিশাল সদর আসনের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এমনকি ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে যথেষ্ট দৃঢ়তার সঙ্গে ‘বরিশাল সদর আসনে তাদের প্রার্থীই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হচ্ছেন’ বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল সদর আসনে দলটির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘১১ দলীয় জোটের প্রার্থীতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বেরিয়ে আসবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো সময় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থীতা ঘোষণা করা হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা না হলে জামায়াতে ইসলামী কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, ‘সময়ই সবকিছু নির্ধারণ করবে।
বরিশাল সদর আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্রের মতে, বরিশাল সদরসহ সব আসনেই সব জোটের সমঝোতার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো বক্তব্য দেননি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর