ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (সিজিডিএস)-এর উদ্যোগে ‘ফ্রম পলিসি টু প্র্যাক্সিস: ইনস্টিটিউশনালাইজিং রাইটস, জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকশন ফর উইমেন অ্যান্ড গার্লস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগিতায় এই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতারের সঞ্চালনায় বৈঠকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান সম্মানিত অতিথি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস্ ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ্-এর সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়েশা বানু স্বাগত বক্তব্য দেন।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হলেও কর্মসংস্থানের গুণগত মান ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে কাজের গুণগত মানোন্নয়ন ও অটোমেশন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়ন ও তাদের কর্মসংস্থান খাতে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দের অভাব রয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া 'কেয়ার গিভিং' বা সেবা প্রদান খাতটিকে একটি মাঝারি-দক্ষতার (মিড-স্কিল) পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে দেশে ও বিদেশে নারীদের জন্য বৃহৎ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা 'ডে-কেয়ার' ধারণাকে অভিজাত শ্রেণির গণ্ডি থেকে বের করে আনতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজকে দায়িত্ব নিয়ে তৈরি পোশাক কারখানায় এবং বস্তিবাসী নিম্ন আয়ের কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য 'কমিউনিটি বেইজড ডে-কেয়ার সেন্টার' গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভ যুক্ত করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে পরিবার ও গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং প্রান্তিক নারীদের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হবে বলে আশা করি।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পুলিশ, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ) মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, নারী বিষয়ক আইনি সংগঠন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন অংশীজন বৈঠকে অংশ নেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর