• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ মিনিট পূর্বে
মোহাম্মদ ফয়সাল
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল

জুলাই সনদে বিসমিল্লাহ-একাত্তর মুছে দেওয়ার কথা সঠিক নয়: আলী রীয়াজ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার কথা জুলাই সনদে উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বাতিল করার কথাও বলেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা জানান। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে সবরকম অপপ্রচার হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন জুলাই সনদ হলে বিসমিল্লাহ থাকবে না, কেউ কেউ বলেন ১৯৭১ সালকে মুছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সঠিক নয়। জুলাই জাতীয় সনদ কোনো অবস্থায়ই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বাতিল করা কথা বলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়নি এমন কোনো বিষয়ই সেখানে উল্লেখ নেই। একইভাবে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার বিষয়েও জুলাই জাতীয় সনদে কিছু উল্লেখ নেই। গণভোটেও সেই প্রশ্ন করা হয়নি। যারা এসব বলছেন, তারা হয় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল বলছেন, ভুল বোঝার কারণে ভুল বলছেন অথবা অন্য কোনো কারণে ভুল বলছেন। আমি আশা করি যে তারা তাদের ভুলগুলো ‍বুঝতে পারবেন, তারা বুঝতে পারবেন যে তাদের অবস্থান সঠিক নয়। আশা করি, তারা তাদের অবস্থান সঠিক করবেন যদি-না তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণার নানারকম কারণ থাকতে পারে। ভুল প্রচারণার অনেকগুলো কারণ আছে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের মানুষজনকে বোঝাতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আমরা গণভোট করেছিলাম, যার মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় এসেছিলাম। তাতে কী কেবল একটা মাত্র অনুচ্ছেদের পরিবর্তন ঘটেছিল? তা তো ঘটে নাই। আমরা কেবল সিম্পল উত্তরটা দিয়েছিলাম। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় টেলিভিশনে বক্তৃতা দিয়ে, সবাইকে অনুরোধ করেছিলেন যেন হ্যাঁ ভোট বিজয়ী করে এবং সেটা বিজয়ী হয়েছিল।

গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আলী রিয়াজ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন না নিজের দলের বিরুদ্ধে, সেটা এমনও হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত যেটা তার নিজের এলাকার জন্য ক্ষতিকারক, তারপরও কিচ্ছু বলতে পারবে না। কারণ নিজের দলের বিরুদ্ধে যদি ভোট দেন তাহলে তার সদস্য পদই চলে যেত। সেটা নিয়ে সব দল একমত হলো যে এটা বদলাতে হবে। বদলিয়ে কি করলাম আমরা? যে দুটো বিষয়ে দলের বিরুদ্ধে বলা যাবে না- একটা হচ্ছে বাজেট। সেটা কি কারণে? কারণ বাজেট নিয়ে তালবাহানা করা যাবে না, কারণ বাজেট পাস না হলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, আপনার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাবে, সরকারি কর্মচারীরা বেতন পাবেন না। সেটার জন্য আমরা বললাম যে- ক্ষমতাসীন দল বা যে কোনো দল তবে প্রধানত ক্ষমতাসীন দল যদি বাজেট প্রস্তাব করেন, তার বিরুদ্ধে তার নিজের দলের লোক ভোট দিতে পারবেন না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে- সংবিধান সংশোধনী। ক্ষমতাসীন দল যদি নিজেদের মধ্যে আলাপ করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর যারা প্রতিনিধি সংসদ সদস্য তারা এর বিরোধিতা করতে পারবেন না। আরেকটা বিষয় বলা হয়েছে যে, দেশে যদি যুদ্ধ লাগে, তাহলে যুদ্ধাবস্থায় নিজ দলের লোক যাতে বিরোধিতা করতে না পারে।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হলে সংসদ সদস্যরা অন্তত বিবেকের তাড়নায় হলেও কিছু সত্য কথা বলতে পারবেন। জুলাই জাতীয় সনদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে যে, ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে দুটো, বড়জোট চারটা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে তারা কথা বলতে পারবেন এবং তারা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারবেন। এই যে ব্যবস্থাগুলো সেই ব্যবস্থাগুলোই কিন্তু হচ্ছে।

সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে আলী রিয়াজ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠিত হবে কিভাবে? বাংলাদেশে আপনারা যখন ভোট দেন, আমরা যখন ভোট দেই আমরা আমাদের পছন্দমত ভোট দেই। তাতে কিছু কিছু দল ৪ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ৬ শতাংশ ভোটও তো পায়, পায় না? তাদের তো কোনো প্রতিনিধি থাকে না সংসদে। তাদের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। কারণ তারা সিট জেতে না। এই যে ৫-৬ শতাংশ ভোট, এই ৫-৬ শতাংশ মানুষও কোনো একটা কথা বলতে চায়, আমরা কি সেটা অগ্রাহ্য করতে পারি? তাদেরও তো কোথাও না কোথাও প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার। সেজন্য আমরা বলছি যে উচ্চকক্ষ থাকা দরকার। সংখ্যানুপাতিক, এটাকে ইংরেজিতে পিআর বলে। অত কঠিন শব্দ আমরা খুব একটা বুঝিও কম, মানতেও চাই না। আমার কথা হচ্ছে- প্রত্যেক ভোটের হিসেব হবে, প্রত্যেক ভোটের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সেটাই হচ্ছে ব্যবস্থা। সেজন্য উচ্চকক্ষে পাঁচ শতাংশ ভোটের জন্য পাঁচটা সিট থাকবে। তাহলে উচ্চকক্ষ সংবিধান সংশোধনকে একটু কঠিন করবে। আরেকটা বিষয় সেটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি কিভাবে নির্বাচিত হন? সংসদে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল চাইলেই একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাস করিয়ে নিতে পারে। যে দলেই ক্ষমতাসীন থাকবে, তার লোককেই রাষ্ট্রপতি বানাতে পারবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]