জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী সিরাজগঞ্জের এতিম হাফেজ রাহিমুলকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পক্ষ থেকে শহরের বাজার স্টেশন মুক্তমঞ্চে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
হাফেজ রাহিমুল ইসলাম কুরআনের ছোয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সারাদেশের সাড়ে তিন হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সে শহরের সয়াধানগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা-মা দুজনেই মৃত। অনুষ্ঠানো আয়োজক ও প্রধান অতিথি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কোরআন। সেই কোরআন প্রতিযোগিতায় রাহিমুল ইসলাম প্রথম হয়েছে। এটা আমাদের সিরাজগঞ্জের গর্ব।
এই সব প্রতিভাবান সম্পন্ন ছেলেদের সংবর্ধনা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করলে মেধার সংখ্যা বাড়বে। ভবিষ্যতে তারা মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে। তিনি বলেন, মুলত আল কোরআনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠগ্রন্থ ও মেধাবীদের উৎসাহিত করতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতিমকে ভালবাসতে হবে। এতিমকে ভালবাসলে মহান আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এতিম। তাকেও সবাই ভালবাসবেন। তাহফিযুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, হাফেজ মো. রাহিমুল ইসলাম শৈশবেই বাবা-মা দুজনকেই হারায়। তার বাবা তিন বছর বয়সে এবং মা পাঁচ বছর বয়সে মারা যান। এরপর তার দায়িত্ব নেন তিনি। বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছর। সাড়ে চার বছর বয়স থেকেই মাদ্রাসায় লালন-পালন ও পড়াশোনা করছে সে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সয়াধানগড়া গ্রামে। পরিবারে রয়েছে এক বোন ও এক ভাই। এক খালা ছাড়া তার খোঁজ নেওয়ার মতোও কেউ নেই।
তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো করে তাকে মানুষ করা হয়েছে। এই অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো দেশের গর্ব। তার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মুফতি রাশেদুল ইসলাম বলেন, রাহিমুল সাড়ে চার বছর বয়স থেকে মাদ্রাসায় রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে সে মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছে। এত অল্প বয়সে এমন অর্জন সত্যিই বিরল। আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি।
হাফেজ মো. রাহিমুল ইসলাম বলেন, ঢাকার শেগুন বাগিচায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সাড়ে তিন হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। সবার মধ্যে প্রথম হতে পেরেছি। এতো আমার আনন্দ ও গর্বের সীমা নেই। সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তার শিক্ষক ও অভিভাবকদের দোয়া কামনা করেন। বিশেষ সংবর্ধনা শেষে তিনি কোরআন তেলোয়াত করেছেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদ্রাসা ছাত্র ও কোরআনে হাফেজসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ অংশগ্রহন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার পর ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বিভিন্ন সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর