অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কোনো চাপ নেই। কেউ এসে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নেয়ার কথা বলছে না। কারণ আওয়ামী লীগ গুম, খুন ও ভয়ংকর দমননীতির মাধ্যমে দেশে একটি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল— যা পুরো বিশ্বই জানে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ইউটিউব ও টিকটকে কিছু মানুষ বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য বলে— নির্বাচন হবে কি না। এসব ভিত্তিহীন কথা। নির্বাচন ভালোভাবেই হবে, ইনশাল্লাহ। এই নির্বাচন বানচাল করার কারো সাধ্য নেই।
তিনি আরও বলেন, অনেকে প্রশ্ন তোলে— আওয়ামী লীগের ভোটাররা নির্বাচনে এলে কী করবে? আমি বলি, তারা এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। গত সাড়ে ১৫ বছর তারা নিজেরা ভোট দিতে পারেনি, তাদের হয়ে পুলিশ ভোট দিয়েছে। তাই আমরা বলছি, খুব ভালো একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমাদের বিদেশি বন্ধুরাও এই নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। তারা সরকারের ওপর আস্থা রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। কেউ কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কথা বলেনি।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ এসে কি ক্ষমা চাইছে? কেউ কি অনুতপ্ত হচ্ছে? বরং তারা প্রশ্ন তোলে— ৩ হাজার পুলিশকে কে মেরেছে। অথচ আন্দোলনে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছে, মেয়েরাও সামনের সারিতে ছিল। তারপরও বলা হচ্ছে— সবাই নাকি জঙ্গি। পুরো জাতিকে জঙ্গি বানিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নামকরা সাংবাদিক এনায়েতুল্লাহ খান একসময় বলেছিলেন, শেখ মুজিবুর রহমান যে পলিসি নিয়েছিলেন, তাতে করে সারা বাংলাদেশের তখন ৬ কোটি ৫০ লাখ লোককে তিনি রাজাকার বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরো বাংলাদেশের সবাইকে জঙ্গি বলছেন। পৃথিবীর কে আছে যে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে।
মতবিনিময় সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র সাংবাদিক মো. আরজু, পীযুষ কান্তি আচার্য, আল আমীন শাহীন, বিশ্বজিৎ পাল বাবু এবং যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর