• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪৪ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৪৯ দুপুর

লাশের সঙ্গে বসবাস ২১ দিন, বেরিয়ে এলো আরো ভয়ংকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে এক শিক্ষিকার বাসা থেকে শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তাদের দুজনকে ২১ দিন আগে হত্যা করে ওই বাসার ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার ছোট বোন নুসরাত জাহানকে (১৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে সদ্য নবম শ্রেণিতে ওঠা ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাসায় যায়। পরে মেয়েকে খুঁজতে সেখানে যান তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকে মা-মেয়ে দুজনই নিখোঁজ ছিলেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রথমে ফাতেমাকে এবং পরে তার মা রোকেয়াকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফাতেমার মরদেহ বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে এবং রোকেয়ার মরদেহ একটি বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। মরদেহ লুকিয়ে রাখার পরও শিক্ষিকা ও তার পরিবার ওই ফ্ল্যাটেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিল।

তিনি জানান, শিক্ষিকার স্বামী রংয়ের ডিলারের ব্যবসা করেন। কয়েক দিন ধরে বাসায় দুর্গন্ধ ছড়ালে তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে স্ত্রী বাইরে কোনো কুকুর মরে থাকার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে দুর্গন্ধ সহ্য না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই ঘর তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে খাটের নিচে মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, নিহত রোকেয়া ছিলেন শিক্ষিকার প্রতিবেশী এবং একটি এনজিও ঋণের জামিনদার। শিক্ষিকা ওই এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনজিও। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। রোকেয়ার সঙ্গে ঝগড়া ও অপমানের ঘটনায় শিক্ষিকার ছোট বোন নুসরাত ক্ষুব্ধ ছিল।

ঘটনার দিন বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে গেলে নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে শিক্ষিকার পরামর্শে নুসরাত ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, যেন ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা বাড়ি ছেড়ে গেছে। দুই ঘণ্টা পর রোকেয়াকে ফোন করে শিক্ষিকা জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। রোকেয়া বাসায় এলে দুই বোন মিলে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করে। এরপর ফাতেমার মরদেহ বাথরুমের ফলস ছাদে এবং রোকেয়ার মরদেহ খাটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ জানান, ২৫ ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা করলেও পুলিশ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সঠিক সময়ে অভিযান চালানো হলে মরদেহ অনেক আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

ওসি সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার দুজনই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা হওয়ায় নুসরাত জাহানকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]