তুমুল উত্তেজনার পর ইরান ইস্যুতে সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দাবি করে দেশটির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “গতকাল যেসব ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, ইরানের নেতৃত্ব সেগুলো বাতিল করেছে। ধন্যবাদ!”
এর মধ্যেই ট্রাম্প যেন ইরানে সামরিক হামলা না চালান, সে জন্য উপসাগরীয় চারটি দেশ তাকে অনুরোধ জানিয়েছিল—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্লোরিডায় সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “আমাকে কেউ বোঝায়নি; আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা (ইরান) কাউকে ফাঁসি দেয়নি। ফাঁসির আদেশ বাতিল করেছে। এটাই হামলা না করার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত প্রায় ৮০০টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ‘স্থগিত’ করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ট্রাম্প একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তার দাবি, দেশটিতে কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের ফলে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছে। যদিও এসব হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা নিয়মিত হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করলেও তাদের উপস্থাপিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সরাসরি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর