নিজেদের নানা ব্যর্থতার কারণেই ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টেকেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। ভেঙে পড়া সমঝোতা ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই আবারও ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনো বৈঠক হবে না বলেও জানান তিনি।
জোট ভাঙার কারণ সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র তিনি এখনো দেখছেন না। নিজেদের বিভিন্ন ব্যর্থতার ফলেই পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে জোটগত সম্পর্ক রক্ষায় আরও আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শরিয়া আইন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভুলভাবে বুঝেছে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জামায়াতকে দায়ী করে ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছে এবং সমঝোতার নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে অপমানের শিকার হওয়ার কথাও জানান ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা বা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শরিয়া আইন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে দলের আমির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘অসম্মানজনক’ আচরণের অভিযোগের বিষয়ে জুবায়ের বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে এ ধরনের ভুল হতে পারে। এর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’ ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে বলে মনে করে জামায়াত।
জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের এখনও সময় বাকি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে ইসলামী দলগুলো এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকে। লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর