আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণখেলাপিদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে, বলে দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। প্লাটফর্মটির দাবি ইসি পক্ষপাতমূলক যেসব সিদ্ধান্তগুলোতে গ্রহণ করেছে তা প্রত্যাহার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে অন্যথায় কঠোর কর্মসূচিতে নামার হুঁশিয়ারী দিয়েছে প্লাটফর্মটি। এছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও জামায়াতের দিকে ‘ঝুঁকে পড়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন হাসিব আল ইসলাম।
তিনি বলেন, এখনো সময় আছে এই ঋণ খেলাপি আর দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিল করে আপনারা (ইসি) যে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন সেই নিরপেক্ষতার যথাযথভাবে ফিরিয়ে আনুন। এরপরেও যদি আমরা দেখতে পাই যে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনারা যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন, আমরা বাংলাদেশের সমস্ত জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা কিন্তু কঠোর থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমরা ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি এর মধ্যে আপনারা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিবেন; নয়তো আমরা আমাদের যে পরবর্তী কর্মসূচি রয়েছে সেটি কিন্তু আমরা ঘোষণা করতে বাধ্য হব।
হাসিব আল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরায়ন অত্যন্ত জরুরি। যারা এই ধরনের যে যারা এই ধরনের কাজ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অস্থীতিশীল করতে হয়, নির্বাচন বাঞ্চাল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে। আমরা চাই যথাসময় নির্বাচন হবে এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উত্তরায়ন হবে। যারা এর বাধা সৃষ্টি করতে চাইবে আমরা রাজপথে এবং আইনিভাবে তাদের সাথে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত হয়েছি।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন বলেন, নির্বাচন কমিশন যে ধরনের আচরণ প্রকাশ করছে তা এক ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক। প্রাপ্ত তথ্য এবং দাখিলকৃত মনোনয়ন মনোনয়নের তালিকা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের বিপুল পরিমাণে অর্থের ঋণ খেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়নের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একাধিক ব্যাংকের খেলাফি থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন টেকনিক্যাল ক্লিয়ারেন্স দেখিয়ে নানা অজুহাতে বৈধতা দিচ্ছে এবং আদালতে চলমান আর্থিক মামলার পরেও প্রার্থীদের তালিকায় নাম বহাল রাখছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ঋণ খেলাপি শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের প্রতীক। লুটেরাদের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি লুটেদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়ার পায়তারা চলছে এবং লুটতরাজদের নতুন করে লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি বিদেশে নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত অস্পষ্ট এবং প্রশ্নবিত্ত কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। বিদেশী পাসপোর্ট এবং দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাসরত তথ্য থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত ছাড়াই তাদেরকে অনুমোদন প্রদান করেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আল্টিমেটাম দিতে চাই দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং লুটেরা ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে এই নির্বাচন কমিশনকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছেড়ে কথা বলবে না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।
প্লাটফর্মটির সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের ফাকফোকর দেখিয়ে তারা আপিলের অপব্যবহার করে তারা চিহ্নিত লুটেরা, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং ঋণ খেলাপীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, আইন সবার জন্য সমান নয়। আমরা এই ধরনের ঘটনাকে কোনভাবেই বরদাস্ত করব না। আমরা মনে করি এটি কেবলমাত্র একটি কতিপয় ব্যক্তির সংকট নয়, এটি পরিপূর্ণভাবে একটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের সংকট।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর