গর্ভধারণ একজন নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি আনন্দ ও উত্তেজনার পাশাপাশি নানা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন তৈরি করে। যদিও অনেক নারী যতটা সম্ভব সাবধান থাকেন, তবু কিছু সাধারণ ভুল হয়ে যায়, যা ভুল তথ্য, ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে ঘটে। এই ভুলগুলো কখনও কখনও মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। চলুন দেখে নিই, গর্ভাবস্থায় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
১. প্রসবপূর্ব চেকআপ এড়ানো বা বিলম্ব করা:
নিয়মিত চেকআপ মিস করলে শিশুর বৃদ্ধি, মায়ের রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং অন্যান্য গর্ভাবস্থাজনিত সমস্যা সময়মতো শনাক্ত করা যায় না। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে এসব সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
২. পুষ্টির গুরুত্ব অবহেলা বা অজ্ঞাত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ:
গর্ভাবস্থায় ‘দু’জনের জন্য খাওয়া’ মানে বেশি না, বরং সঠিক ও সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্তভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক। নতুন ডায়েট বা খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার:
গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ ও ভেষজ প্রতিকার ভ্রূণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণ ব্যথানাশক বা ঠান্ডা লাগার ওষুধও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।
৪. শারীরিক কার্যকলাপ এড়ানো:
মাঝারি মাত্রার শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, যেমন হাঁটা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম ও হালকা স্ট্রেচিং, গর্ভকালীন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপ উপেক্ষা করা:
গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ ও উদ্বেগ স্বাভাবিক মনে হলেও এটি মায়ের সুস্থতা, ঘুম ও হরমোন ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর