ঝুঁকি ও নানা চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা জেনেও পোস্টাল ব্যালট চালুর সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই- এমন দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রবাসীসহ নিজ আসনের বাইরে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম নিয়ে বিফ্রিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এর আগে দেশে এই ধরনের সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক উন্নত দেশও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা করে দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন এই উদ্যোগ নেই, তখন জানতাম এর মধ্যে বহু ঝামেলা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা একটা অজানা এরিয়াতে ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শপথ ছিল এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার। ১২২টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, আইন এবং পোস্টাল সিস্টেমকে এক সুতোয় গাঁথা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের টিম নিরলসভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।
সিইসি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা না পেলে আমরা এতটুকু আসতে পারতাম না। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে বারোটা বাজায়ে দিতো আমাদের। এই ইনিশিয়েটিভে আপনারা আছেন বলেই আপনাদের কাছ থেকে মানুষ সঠিক তথ্যটা পায়। কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। যে কোন একটা নতুন উদ্যোগে কিছু হয়তোবা ভুল ত্রুটি হতে পারে, মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে। আমি ভুল হয়েছে বলব না অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে, কনফিউশনটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে দেখবেন যে এখানে আসলে কোন অন্য কোন মোটিভ কাজ করে নাই।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তারা বলেন যদি বাংলাদেশ এই পোস্টাল ব্যালট সফল করতে পারে, তবে তা বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও এভাবে সফল হতে পারেনি। প্রথম বছর হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শুধু প্রবাসী নয়, যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় থাকতে পারেন না বা যারা কারাগারে আছেন, তাদের জন্যও ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে কেউ এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এই কাজ শুরু করেছি।
এসময় ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর