এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী রয়্যালসের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই ক্রিকেট ভক্তদের মন জুড়ে দিয়েছে। সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক হওয়া ফাহিম আশরাফের মতোই, প্রথম কোয়ালিফায়ারে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব এসেছিল রিপন মন্ডলের কাঁধে। তবে রঞ্জিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা রাজশাহী ব্যাটার এই চাপ সামলাতে পারেননি। শেষ ৩ বল হাতে রেখে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী নিজের নিখুঁত নেতৃত্বে দলকে জয় নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম রয়্যালস টানা দ্বিতীয়বার বিপিএল ফাইনালে উঠেছে। এর আগে ২০১৩ সালের বিপিএলের ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েও শিরোপা জেতার সুযোগ হারিয়েছিল তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ জানা যাবে আগামীকাল, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ও সিলেট টাইটানসের ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে।
রাজশাহী ১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৪ রান যোগ করে। নাঈম শেখ ও মির্জা বেগের জুটি ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় উইকেট হারার সময় দল স্কোর ৯৮। এরপর শেষ ৩৬ রান তাড়া করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কিছুটা দমে গিয়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক মেহেদী দায়িত্ব নিয়ে ৯ বলে ১৯ রান যোগ করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের ওপেনার মির্জা সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন। অপরাজিত ১৯ রানের সঙ্গে ২ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদী, যার জন্যই তাকে ম্যাচসেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর পক্ষে আব্দুল গাফফার সাকলাইন দুটি উইকেট নেন। প্রথমে ব্যাটিং করা রাজশাহী শুরুটা ভালো করলেও মাঝপথে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানে অলআউট হয়। এই স্কোরেও যদি শেষ দিকে সাকলাইন ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস না খেলতেন, সাফল্য পাওয়া কঠিন হতো।
সাকলাইনের ইনিংস ২ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো হয় এবং তিনি ২১৩.৩৩ স্ট্রাইকেরেটে খেলেন। ওপেনিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী ও আমের জামাল। এই জয় নিশ্চিত হওয়ায় চট্টগ্রাম ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছে এবং তারাই এবারের বিপিএল শিরোপা জয়ের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর