ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর মধ্যে রোজা অন্যতম। রজব ও শাবান মাসে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের এই ইবাদত পালন নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার বিষয়ে রয়েছে একাধিক সহিহ হাদিস ও আলেমদের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
রোজা মূলত এমন একটি আত্মিক ইবাদত, যা মানুষকে ফেরেশতাদের মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বান্দা নিজের নফসকে সংযত করে এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।
একজন মুসলমানের মাঝেমধ্যেই নফল রোজা রাখা উচিত। এতে দুনিয়ামুখী আসক্তি কমে, মনোবল দৃঢ় হয় এবং আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
শাবান মাসে রোজা
শাবান মাসে রোজার ফজিলত সম্পর্কে একাধিক সহিহ হাদিস রয়েছে। সহিহ মুসলিমে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কখনো রমজান ছাড়া পুরো এক মাস রোজা রাখতে দেখিনি। আর শা‘বান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে তাকে এতো বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অল্প কয়েক দিন ছাড়া প্রায় পুরো মাস রোজা রাখতেন।
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, নবীজি (সা.) শাবান মাসে অন্য যে কোনো মাসের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন। আলেমদের মতে, শারীরিক ও আত্মিক উভয় দিক থেকেই মূলত রমজানের প্রস্তুতির জন্য রাসুল (সা.) শাবান মাসে এই আমল করতেন ।
ইবাদতে ভারসাম্যের তাগিদ
রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো টানা অনেক দিন রোজা রাখতেন, আবার কখনো কয়েক দিন বিরতি দিতেন। অর্থাৎ ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য ও মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুটি হাদিস রয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে, তোমরা এমন আমল করো, যা তোমাদের পক্ষে নিয়মিত করা সম্ভব। কারণ আল্লাহ ততক্ষণ সওয়াব দেওয়া বন্ধ করেন না, যতক্ষণ না মানুষ নিজেই আমল করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেটি, যা নিয়মিত করা হয়, যদি তা অল্পও হয়।
শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সুন্নত ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে তা যেন কষ্টসাধ্য বা একঘেয়েমির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর