আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, মোট ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এদের মধ্যে অন্তত ২৭ জন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রার্থীদের ইশতেহার ও হলফনামা বিশ্লেষণ করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্তের হার সবচেয়ে বেশি। দলটির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণ বা দায়ে জর্জরিত।
টিআইবির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১ হাজার ৯৮১ জন অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মোট প্রার্থীর ২৫ দশমিক ৫ শতাংশের কোনো না কোনো ধরনের ঋণ রয়েছে। প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংকঋণই ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্তের হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে এ হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা মাত্রা ৫ শতাংশ পূরণ করতে পারেনি। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি ব্যবসায় জড়িত, আইন ও শিক্ষক পেশার হিসেবে যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ। রাজনীতিক পেশা হিসেবে মাত্র ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী নিজেকে দেখিয়েছেন।
নির্বাচনি খরচের দিকেও নজর দিলে দেখা যায়, সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা। প্রতি প্রার্থীর গড় ব্যয় প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে বিএনপি (১১৯.৫ কোটি) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (৮০.৬ কোটি)।
টিআইবির প্রতিবেদন অনুসারে, ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় ১১৮ প্রার্থীর স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলের অস্থাবর সম্পদ বেশি, ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় দালান বা ফ্ল্যাট বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় জমির পরিমাণ বেশি।
এ ছাড়া, প্রার্থীদের মধ্যে ৫৩০ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা চলমান, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা ৩১.৬৪ শতাংশ।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর