ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে নিয়োগ বোর্ড শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগ বোর্ডে বিভাগটির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অনুপস্থিতির কারণে বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি ইউট্যাবের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কারণে বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে এদিন দুপুর পৌনে দুইটায় নিয়োগ বোর্ড বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন সীমিত পরিসরে হলেও শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু রেখেছিল। সে ধারাবাহিকতায় আজ কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কোনো এক অজ্ঞাত চাপের মুখে প্রশাসন হঠাৎ করেই নিয়োগ বোর্ড বাতিল করেছে। এর প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল ঘোষণা করেছি।
জানা গেছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের নিয়োগ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা পরীক্ষায় বসতে পারেননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের প্রজ্ঞাপন দেয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগটিতে শিক্ষক সংকট চলছে। বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনটি পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পদে দুটি এবং প্রভাষক পদে একটি পদ রয়েছে। রোববার বেলা ১০টায় এসব পদের জন্য নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান অনুপস্থিত থাকায় বোর্ডটি স্থগিত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগের অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের বোর্ডের বাকি ৩জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে আজ কেন তিনি আসলেন না তা আমার জানা নেই। তার অনুপস্থিতির কারণেই আজকের বোর্ডটি স্থগিত করা হয়েছে। অতিসত্বর এই বোর্ডটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।
এসময় প্রার্থীদের ভোগান্তি এবং যাতায়াত খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি মিটিংয়ের পর জানানো হবে। তবে বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে সকল ধরনের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এছাড়া গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রেজিস্ট্রার বরাবর জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানান।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর