দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পুকুরপাড়ে পড়ে থাকা একটি ধাতব বস্তু ঘিরেই চলেছে কাপড় ধোয়া, লাকড়ি কাটা ও শিশুদের খেলাধুলা। কেউ ভেবেছিলেন ভাঙা যন্ত্রাংশ, কেউ আবার লোহার টুকরো। অথচ নীরবে পড়ে থাকা সেই বস্তুটিই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমা। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম লটউখিয়ার ঘোনার তচ্ছাখালী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বহু বছর আগে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বড় আকৃতির একটি ধাতব বস্তু খুঁজে পান। পরে সেটিকে গ্রামের পুকুরপাড়ে এনে রাখা হয়। এরপর ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বস্তুটিকে ঘিরেই চলেছে নিত্যদিনের নানা কাজ।
তচ্ছাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং সব সময় বস্তুটিকে একই জায়গায় পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে গোসল করতাম, কাপড় ধুতাম। কখনো মনে হয়নি এটা বিপজ্জনক কিছু। তিন মাস আগে পাহাড়ি ঢলে পুকুর ভরাট হয়ে গেলে বস্তুটি সরিয়ে পাশের বসতভিটার কাছে নেওয়া হয়। তখনো এটাকে সাধারণ লোহার জিনিসই মনে করতাম। পরে শুনি এটা নাকি বোমা। তখন থেকেই ভয় লাগছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, তারা বস্তুটিকে ‘বোমের ঝিরি’ নামে ডাকতেন। তিনি বলেন, “এখানে কাপড়-কম্বল ধুতাম, কোনো ভয় ছিল না। একটা পাখার মতো অংশও ছিল। এখন শুনছি এটা বোমা—তাই আতঙ্কে আছি।”
গ্রামবাসীরা জানান, অজান্তেই অনেকেই বস্তুটির ধাতব অংশ কেটে নিয়ে গেছেন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরীক্ষা করে এটিকে বোমা হিসেবে শনাক্ত করে। এরপর লাল কাপড় দিয়ে এলাকা চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা রফিক বলেন, “এতদিন ভয় পাইনি। কিন্তু বোমা জানার পর খুব ভয় লাগছে।” আরেক বাসিন্দা ইরফান বলেন, “এখানে ছোট বাচ্চা আছে, অনেক পরিবার থাকে। দ্রুত এটা সরিয়ে নেওয়া দরকার।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সেনাবাহিনীকে অবহিত করে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বস্তুটি বোমা সদৃশ মনে হওয়ায় ক্যান্টনমেন্টের বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা দিয়েছে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বোমা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ঝুঁকি এড়াতে এলাকাটি লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার জন্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে বোমাটি নিষ্ক্রিয় বা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, বোমাটির আকার বড় গ্যাস সিলিন্ডারের মতো হলেও দৈর্ঘ্যে আরও বড়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় পুরো শরীরে মরিচা ধরেছে। তবে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর