ময়মনসিংহের ভালুকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নির্বাচনী প্রচারণায় ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। তিনি এসব ঘটনার জন্য একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বাটজোর বাজারে গণসংযোগ শুরু করলে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা তার ওপর এবং 'হরিণ' প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এরপর ভালুকা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে হরিণ প্রতীকের সমর্থক আদি খান শাকিল ও রাফি উল্ল্যাহ চৌধুরীসহ একাধিক কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করা হয় এবং একটি নোয়া গাড়ি আটকে রেখে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আদি খান শাকিলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। একইভাবে হরিণ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়গুলোতেও হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক যানবাহন ও মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিডস্টোর বাজারে যুবদল নেতা শামীমের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে শামীম ও খসরুসহ কয়েকজন আহত হন এবং ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল পুড়ে যায় বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে খান সোহাগের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ৬নং ওয়ার্ডের মেজরভিটা এলাকায় তার কর্মী তিয়াস মাহমুদ শুভর বাসায় রাত ৯টা ১০ মিনিট এবং পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে দুই দফা হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাসার গেট ভাঙচুর, গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে হরিণ প্রতীকের সমর্থক হাজী এমদাদের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা মোড়ে আনোয়ার ইসলাম নামে এক সমর্থককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলা হয়।
এছাড়াও ৭নং মল্লিকবাড়ী, ২নং মেদুয়ারী, ৩নং ভরাডোবা, ৯নং কাচিনা, ১নং উথুরা ও রাজৈ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মহিলা কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও অটোরিকশা আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের সহিংসতায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর