সরকার কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এ নীতিমালায় প্যারোলে মুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও স্বচ্ছ করতে সরকার এ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেখানে প্যারোল প্রদানের ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য নিয়ম ও বিধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(ক) সাধারণ নীতিমালা:
১. (ক) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
(খ) ভিআইপি/অন্যান্য সব শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দিদের নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারোলে মুক্তির দেওয়া প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;
উভয়ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন।
কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির নতুন নীতিমালা জারি
২. সেক্ষেত্রে বন্দি সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরাধীনে রাখতে হবে।
৩. মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার অধিক হবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা হ্রাস/বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
৪.কোনো বন্দি যদি তার নিজ জেলার কোনো কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার বা সাব জেলে আটক থাকেন, তবে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ওই জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। অন্যদিকে, কোনো বন্দি নিজ জেলার বাইরে অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার বা সাব জেলে আটক থাকলে, গন্তব্যস্থলের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।
তবে উভয় ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াতের দূরত্ব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর অথবা না-মঞ্জুর করার পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।
৫. কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেওয়ার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবেন।
(খ) প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
(গ) পূর্বে জারিকৃত নীতিমালা বাতিল:
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর কারা শাখা-২ হতে গত ২২-০৯-২০০৭ খ্রি. তারিখে স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮ এবং ০৪-০৩-২০১০ খ্রি. তারিখে স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭নম্বর স্মারকমূলে জারিকৃত নীতিমালা বাতিল করা হলো।
বর্ণিতাবস্থায়, বর্তমান নীতিমালাটি অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর