যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের জামিন মঞ্জুর করেছেন উচ্চ আদালত। তবে জামিন আদেশ পেলেও আজই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
এর আগে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সাদ্দাম। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা সর্বশেষ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সোমবার (৬ জানুয়ারি) ওই আবেদনের শুনানিতে সাদ্দামের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি ও মোহাম্মদ ফজলুল করিম মণ্ডল।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে মা ও শিশুর মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ সাদ্দামের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যশোর কারাগারে জামিনের আদেশ না পৌঁছানোই সাদ্দামকে আজই মুক্ত করার সম্ভব হচ্ছে না। জামিননামা পেলেই সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গোপালগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর