বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।
বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের বিষয়টি মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন বন্দর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নিকাণ্ড ও ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত বাধা অতিক্রম করে বন্দরে যুগোপযোগী সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম কমেছে এবং বন্দরের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া পানগাঁও ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ, বে টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার নৌবাণিজ্য হাবে পরিণত হবে।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানিকৃত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সাক্ষাতে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন দূতাবাসের ইকোনমিক ইউনিট চিফ মাইকেল পিনিল, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, ইকোনমিক স্পেশালিস্ট আসিফ আহমেদ। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক এবং সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা উপস্থিত ছিলেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর