মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ওই অঞ্চলের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। আমি নিশ্চিত। তারা বহুবার ফোন করেছে। তারা কথা বলতে চায়।”
ট্রাম্প পরিস্থিতিকে “পরিবর্তনশীল” বা in flux উল্লেখ করে বলেন, ইরান পরিস্থিতির দিকে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তিনি জানান, ইরানের কাছাকাছি একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। “আমাদের একটি বড় বহর ওই দিকে যাচ্ছে। কী হয়, দেখা যাক,” বলেন ট্রাম্প।
সম্ভাব্য চুক্তির কঠোর শর্ত
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানায়, কোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— সব ধরনের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ বা পরিবর্তন করা, নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা। তবে এসব শর্তে এখন পর্যন্ত ইরান সম্মত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা
ফক্স নিউজ ডিজিটালের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এলাকার জলসীমায় প্রবেশ করে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি বড় শক্তি ইরানের দিকে পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”
ইরানের ভেতরে অস্থিরতা
এদিকে ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA)-এর তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এ সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে আরও পরামর্শ করবেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিকল্প এখনো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর