রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরিয়ে দাঁড় করানোর ঘটনায় ঘাতক বাস চালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গাজিউর রহমান জানান, রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে মুখোমুখি চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ই বিভাগের ছাত্র শান্ত ইসলামসহ ৩ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বাস চালক দ্রুত বাস চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে সড়ক অবরোধকারীরা গুজব ছড়ানো হয় যে পুলিশ অর্থের বিনিময়ে বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।
এ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্র জনতা উত্তেজিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে না দেয়া সহ বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং একজন এসআইকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। সেই সঙ্গে একজন এসআই কে কান ধরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এ ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের এসল্ট করার অপরাধে পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পলাতক বাস চালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজ শুরু করে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঘাতক বাস চালক সাইফুল ইসলাম (৪৮)কে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। সাইফুল ইসলাম নাটোর সদরের কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়ার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে। তাকে আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতেই রাজকীয় পরিবহনের বাসটি আটক করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে পুলিশ এসল্ট মামলার আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। সোমবার বিকেলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা করা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান করার মূল হোতা হাসানুর রহমান তুহিনকে (২৬) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তুহিন রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর