চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে কোর্টের অনলাইন বা অফলাইন কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে সরওয়ার আলমগীরকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে তার মনোনয়ন বাতিল করে। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ঋণ পুনঃতফসিলের পর সরওয়ার আলমগীরের নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ চেম্বার আদালত বহাল রাখেন। গত ২২ জানুয়ারি এই আদেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেন।
তবে ওই আদেশের লিখিত কপি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি বলে দাবি করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবী ইসমাইল গণি। তিনি বলেন, একটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। হাইকোর্টে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শুধু একটি সামারি অর্ডার পাওয়া গেছে। এখনো কোনো স্বাক্ষরিত আদেশ নেই।
তিনি আরও বলেন, এই অবস্থায় জেলা প্রশাসক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা অতিউৎসাহী কার্যকলাপ। তিনি নিজেই রিট মামলার একটি পক্ষ এবং একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা। রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (সিএমপি) দায়ের করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। রায়ের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই এমন হটকারী সিদ্ধান্ত দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
এদিকে মঙ্গলবারই জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী ইসমাইল গণি হাইকোর্টে সিভিল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (সিএমপি) নম্বর ৮২/২০২৬ দায়ের করেন।
জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, যেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক, সেখানে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা কখনোই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। মুখে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে জেলা প্রশাসক যা করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর