বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কালিপুর গ্রামের ছত্তার হাওলাদার বাড়ি থেকে রাজ্জাক মাস্টার বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ এই খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ওই এলাকার কয়েক শত একর জমিতে কৃষি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছেন শতাধিক কৃষক পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। খালের দুই পাশ দখল ও দীর্ঘ বছর খনন না করায় নালায় পরিণত হয়েছে। পানির প্রবাহ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। বিশেষ করে রবি শস্য ও বোরো আবাদের এই মৌসুমে পানির অভাবে মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে।
কালিপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক মো. ফারুক জানান, ‘‘এক সময় এই খালটিই ছিল তাদের চাষাবাদের প্রধান উৎস। ছত্তার হাওলাদার বাড়ি থেকে শুরু করে রাজ্জাক মাস্টার বাড়ি পর্যন্ত এলাকার জমিগুলো এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় যেমন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কৃষকই এখন আর চাষাবাদ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষক ইউসুফ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘খাল দিয়ে পানি না আসায় আমাদের সব জমি এখন অনাবাদি পড়ে আছে। আমরা চাষি মানুষ, ফসল না ফলাইলে খাব কী? সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই খালটি খনন করা হোক।’’
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, খালটি দ্রুত খনন করা না হলে এই এলাকার কৃষি উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তায়। পানি চলাচল স্বাভাবিক হলে এই এলাকার কৃষকরা বছরে তিন বার ফসল ফলাতে পারবেন। খালটি খনন করা হলে এলাকার কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে এবং কৃষকরা তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে পাবেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমরান হোসাইন বলেন, ‘‘এই খালটি এক সময় আমাদের এলাকার কৃষি অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন ছিল। ছত্তার হাওলাদার বাড়ি থেকে রাজ্জাক মাস্টার বাড়ি পর্যন্ত এই দীর্ঘ খালটি দিয়ে এক সময় নৌকা চলত, আর শত শত একর জমিতে অনায়াসেই সেচ কাজ চলত। কিন্তু দীর্ঘ বছর খনন না করায় এবং পলি জমে খালটি এখন মৃতপ্রায়। ফলে এই এলাকার কৃষকরা এখন নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই খালটি পুনঃখননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন ঘোষ বলেন, ‘‘কালিপুর এলাকার এই খালটি ভরাট হওয়ার কারণে কৃষকরা যে সেচ সংকটে ভুগছেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। মূলত ওই এলাকার বিশাল একটি কৃষি ব্লকের উৎপাদন এই খালের ওপর নির্ভরশীল। খালটি খনন করা হলে কেবল রবি শস্য বা বোরো আবাদ নয়, বরং সারা বছর আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্ভব হবে। এলাকার কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই খালটি খননের প্রস্তাবনা আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে (বিএডিসি বা পাউবো) প্রেরণ পক্রিয়া শুরু করেছি। চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের এই দাবি বাস্তবায়ন করা যায়।’’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর