শীতকালে অনেকেই তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করেন। এটি সাধারণ অস্বস্তি মনে হলেও অনেক সময় শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই এটি অনুভব করতে পারে এবং কখনও কখনও এটি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে বা কোনো গোপন স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথাব্যথার ধরন বোঝা সঠিক চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান ধরনের মাথাব্যথা ও কারণ
১. টেনশন বা চাপজনিত মাথাব্যথা
সবচেয়ে সাধারণ মাথাব্যথা। এটি সাধারণত কপালের ওপর বা ঘাড়ের পিছনে চাপ বা বেঁধে রাখার অনুভূতি দেয়। বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জল পান বা ওভার-দ্য-কাউন্টার পেইনকিলার সাধারণত আরাম দেয়। সাধারণ ট্রিগার: চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের অভাব, ভুল ভঙ্গিমা, বেশি স্ক্রিন টাইম।
২. মাইগ্রেন
টেনশন হেডেকের চেয়ে অনেক তীব্র। এতে নৌসিয়া, আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং মাঝে মাঝে চোখে ঝলমলে বা ঝাপসা দাগ দেখা দিতে পারে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ মাইগ্রেনে ভুগে থাকেন। ট্রিগার হিসেবে হরমোন পরিবর্তন, চকলেট, চিজ, ক্যাফেইন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অনিয়মিত ঘুম উল্লেখযোগ্য।
৩. ক্লাস্টার হেডেক
কম প্রচলিত, কিন্তু অত্যন্ত তীব্র। এটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা চক্রাকারে ঘটে এবং রাতের সময়ে ঘুম ভেঙে দিতে পারে। ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশ ও চোখের চারপাশে থাকে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন। ট্রিগার: অ্যালকোহল, ধূমপান, উচ্চতা, চরম তাপ বা কিছু ওষুধ।
৪. সাইনাস হেডেক
সাইনাস প্রদাহের কারণে মাথায় চাপ বা ভার অনুভূত হয়। কপাল, গাল ও চোখের চারপাশে ব্যথা হতে পারে। ডিকনজেস্ট্যান্ট, নাক ধোয়া বা সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক সাহায্য করে। সঙ্গে নাক বন্ধ থাকা, মুখের চাপ, পোস্ট-নাসাল ড্রিপ বা মাঝে মাঝে জ্বর থাকতে পারে।
৫. ক্যাফেইন সম্পর্কিত মাথাব্যথা
নিয়মিত কফি বা চা পান করে হঠাৎ কমানো বা অতিরিক্ত নেওয়ায় মাথাব্যথা হতে পারে। ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো এবং বেশি পানি পান করায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাধারণত এতে বিরক্তি ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি মাথাব্যথা ঘনঘন, তীব্র বা অস্বাভাবিক লক্ষণের সঙ্গে হয়, তবে অবশ্যই পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি কখনও কখনও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সর্বশেষ খবর