নৈতিকতা লঙ্ঘন করে অর্থ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি, অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এবং বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য সংবলিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আবুল কালাম আজাদকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর রুহুম আমীন।
তিনি জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তহশিলদার আবুল কালাম আজাদের নামে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরআগে তহশিলদার মো. আবুল কালাম আজাদের অনিয়ম ও ঘুষ বানিজ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মো. আবুল কালাম আজাদ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি, অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এবং বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত। এসব অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সরকারি দপ্তর ও ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা অসদাচরণ এবং চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
নোটিশে আরও বলা হয়, উল্লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তহশিলদার মো. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্যঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, জমির নামজারি আবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল এবং অর্থের বিনিময়ে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করায় এক ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত তহশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।
বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজিমা আক্তার তার ভোগদখলে থাকা জমির নামজারির জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করেন। আবেদন তদন্ত শেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম আজাদ প্রথমে দাবি করেন, জমিটি আবেদনকারীর দখলে নেই। তবে একইসঙ্গে নামজারি প্রতিবেদন মঞ্জুর করে দেওয়ার শর্তে তিনি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দাবির প্রমাণ হিসেবে একটি চিরকুটের মাধ্যমে তিনি তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ভুক্তভোগীর হাতে দেন। তহশিলদারের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তার প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর বাকি ৩০ হাজার টাকা তহশিলদারের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী মাজেদুলের মাধ্যমে দাবি করা হয়। কিন্তু বাকি টাকা দিতে ভুক্তভোগী অস্বীকৃতি জানালে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ “দখল নাই” উল্লেখ করে একটি মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং নামজারির আবেদন বাতিল করে দেন।
নামজারি আবেদন বাতিলের কারণ জানতে ভুক্তভোগী ভূমি অফিসে গেলে তহশিলদার নানাভাবে টালবাহানা শুরু করেন এবং ধারাবাহিক হয়রানি চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে নামজারি বাতিলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তহশিলদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে দায়িত্ব দিলে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ওপর অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তারের ছেলে নুরে আলম সুজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুল্লী থানায় অভিযুক্ত তহশিলদার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। জিডিতে সুজন উল্লেখ করেন, তার নাবালক ভাই মাহমুদুলের পক্ষে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করায় তহশিলদার ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর