আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ পাওয়ার সাথে সাথেই সারাদেশের ন্যায় নরসিংদী-০৩ শিবপুর আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের লড়াই। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।
জানাচ্ছেন উন্নয়ন, সেবা ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি। বিএনপির দুর্গ খ্যাত এই আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া নেতাকর্মীরা। তবে ছাড় দিতে নারাজ স্বতন্ত্রপ্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এ আসনে তারাও আশার আলো দেখছেন। তবে ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এবার ভোট দেবেন অঙ্ক কষে। কোনো দলের অন্ধ অনুসারী না হয়ে নিজেরা হিসাব-নিকাশ করে প্রার্থী বেছে নেবেন বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
এখানে ০৯ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে মোট ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ৯৭০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার, ১ লাখ ৪১ হাজার ৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০জন ও হিজারা ভোটার রয়েছে ০১ জন।
স্বাধীনতার পরর্বতী ১৯৭৩-১৯৭৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এ আসনটি আওয়ামীলীগের রবিউল আওয়াল খান কিরণ, ১৯৭৯-১৯৮২ মার্চ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদুল কবির (মনু মিয়া), ১৯৮৬-১৯৮৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত (১৫ দলীয় ঐক্য-ন্যাপ) থেকে কামাল হায়দার ও ১৯৮৮-১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি থেকে শাহজাহান সাজু জয় লাভ করেন। পরর্বতী ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নরসিংদী-৩ আসনটি এক সময়কার বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার জয়লাভ করে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। পরর্বতী ২০০৮ সাল থেকে এখানে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আসনটি দখলে নেয়।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ আসনটি থেকে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী। অপরদিকে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া স্মৃতি পরিষদের সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আরিফ-উল-ইসলাম মৃধা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মো: রাকিবুল ইসলাম রিক্সা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
অপরদিকে নির্বাচনি তালিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো: মোস্তাফিজুর রহমান কাওসার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে নাম রয়েছে। তবে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ আসনে জাকের পার্টির মনোনীত প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মরহুম এডভোকেট শওকত আলী পাঠানের ছেলে এডভোকেট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রাথী মো: ওয়ায়েজ হোসেন ভূইয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ কে এম রেজাউল করিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অপরদিকে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রায়হান মিয়া আপেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
এদিকে সাধারণ ভোটাররা জানান, যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে হাজির হন; কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে তাঁদের দেখা মেলে না। কোনো প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নানা ধাপ পার হওয়া খুবই কষ্টকর। কিন্তু এরপর আমাদের সুখ-দুঃখে অতীতে যাঁরা পাশে ছিলেন, এবার আমরা তাঁদেরই ভোট দেব। আগের নির্বাচনে নিজের ভোট দিতে না পারায় এখনও ক্ষুব্ধ। তবে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবার অবশ্যই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে যাব।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর