“২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু দেখা গেল, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে। রাজনীতির দুই ভূত কাঁধ থেকে নামাতে কেউ রাজি নয়। লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়নি।”
বিপ্লব করে স্বাধীনতা আনা হলেও সেই বিপ্লবের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছেনি। দিনমজুর, হকার—কেউই চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না। গোটা দেশে শোষকের চেহারা বদলেছে, কিন্তু শোষণের ধরন একই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেলেও প্রকৃত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ ভেবেছিল— এবার তারা নিজেরাই নিজেদের শাসন করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও সাধারণ মানুষ শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্যের শিকার।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নরসিংদী-৩ শিবপুর উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ইটাখলা বালুর মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নরসিংদী জেলা যুব মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় ও দলটির শিবপুর উপজেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল বাসেত কাসেমীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত রিকশা প্রতিকের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মুফতি রাকীবুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবে কোনো বড় রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব দেয়নি; নেতৃত্ব দিয়েছে এ দেশের ছাত্র-জনতা। তিনি বলেন,যারা মনে করে বড় রাজনৈতিক দল ছাড়া বিপ্লব হয়না ,পরিবর্তন সম্ভব না। ১৭ বছরে তাদের ঈদও অসেনাই,ঈদের পরে তাদের আন্দোলনও হয়নাই। মানুষ হাতির দাঁত দেখে ফেলেছে, তাই এদেশ থেকে রাজনীতির দুই ভূতকে দূর করতে হবে।
তাই আমরা ১১টি দল, ১১ ভাই হাতে হাত রাখলাম, শপথ করলাম, আমাদের নেতা কর্মী দলের ভাগ্য নয়, জোটের ভাগ্য নয়, বাংলার আঠারো কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চাই। আমরা কোনদিনই কল্পনা করি নাই, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে কোন গোষ্ঠী না- এর পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। এত বড় গাদ্দারী শহীদদের সাথে আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করে ফ্যাসিবাদ চূড়ান্তভাবে বিদায় দিতে হবে। তিনি নরসিংদী-৩ শিবপুরের ভোটারদের রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নরসিংদী জেলার সভাপতি প্রিন্সিপাল আব্দুন নূর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলার উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিবপুর উপজেলা আমীর মুস্তাফিজুর রহমান কাওসার সাধারণত সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সিনিয়র দায়িত্বশীল অধ্যাপক আতাউর রহমান,পৌর শাখা আমীর আব্দুর রহমান, এনসিপির শিবপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ ভুইয়া, যুব মজলিস নরসিংদী জেলা সভাপতি মুফতি হাশমতুল্লাহ ফরিদী, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদের অন্যতম সদস্য আশরাফুল ইসলাম সাদ ও মাহদী হাসান শিকদার, শিবপুর উপজেলা সভাপতি আদেল ভুইঁয়া, ছাত্র শিবির শিবপুর উপজেলার সভাপতি মাহফুজ আদনান প্রমুখ।
এ সময় শিবপুর উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শিবপুর উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রসুলপুরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরান হোসাইন, পুটিয়া ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা আল আমিন পাঠান, বাঘাব ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সাধারচর ইউনিয়নের দায়িত্বশীল মাওলানা হাবিবুল্লাহসহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মামুনুল হক রিকশা প্রতিকের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মুফতি রাকীবুল ইসলামের হাতে রিকশা প্রতীকের রেপ্লিকা তুলে দেন এবং বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর