আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিপুল পরিমাণ অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৬ হাজারের বেশি এআইভিত্তিক অপতথ্যের কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই নির্বাচনকেন্দ্রিক এবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কনটেন্ট সহিংস বা উসকানিমূলক।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনারদের মধ্যে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহকে নিয়েও ছড়ানো হয়েছে অপতথ্য। সিইসি ও নির্বাচন কমিশন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নামেও ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বাদ যায়নি রাজনৈতিক দলেরও নেতারাও। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নামে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হয়েছে অপতথ্যের কনটেন্ট।
ইসি জানায়, এআই ভিত্তিক অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হচ্ছে মেটার ফেসবুক থেকে ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এছাড়া ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে এক্স থেকে।
জানা যায়, এআই অপতথ্য চিহ্নিত করতে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির ই-মনিটর প্লাস প্ল্যাটফরম। এদের দেওয়া তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সরবরাহ করছে ইসি৷ বাহিনীগুলো স্ব স্ব সেল থেকে তা মোকাবেলার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া এনটিএমসিও ইসিকে এআই ভিত্তিক অপতথ্য মোকাবেলায় সহায়তা দিচ্ছে।
ইউএনডিপি ই-মনিটর প্লাস প্ল্যাটফরম তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে তথ্য দিয়েছে, এতে ৮৬ হাজার কনটেন্টের অধিকাংশই তৈরি হয়েছে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চল থেকে। অপতথ্যের ৯০ শতাংশ ছড়ানো হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।
এদিকে টিকটকের মাধ্যমে যেন এআই নির্ভর অপতথ্য না ছড়ায়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে ইন অ্যাপ নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র। টিকটক একই সঙ্গে রিপোর্ট করা কনটেন্টগুলো বা গাইডলাইনের বাইরের কনটেন্টগুলো নামিয়ে ফেলছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন,ইউএনডিপি ও টিকটক আমাদের সহায়তা করছে। আর ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অপতথ্য নির্ভর কন্টেন্টগুলো আমরা চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে দিয়ে দিচ্ছি। তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর