ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক বলেছেন, "যারা প্রকৃত পর্যবেক্ষক তারাই পর্যবেক্ষক কার্ড পাবে। তালিকা যাচাই-বাছাই হচ্ছে। সবাই পাবে না, নিশ্চিত থাকেন।"
তিনি আরও বলেন, "প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করে কেন্দ্র থেকে যাবে। রেজাল্ট উল্টাবে এমন চিন্তাভাবনা মাথায় আনবেন না। বলেছি ভালো ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের ৬টা জেলার প্রধান হিসেবে কথা দিয়ে যাচ্ছি ভালো ভোট হবে, ভালো নির্বাচন হবে। আপনাদের মধ্যে যেন মেলবন্ধন থাকে। সবার উদ্দেশ্য একটাই ভালো ভোট। এজন্য আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা সচেতন। যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইবে আমরা সচেতন থাকলে তারাও সচেতন হয়ে যাবে।"
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলা নির্বাচন অফিসারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "বিভিন্ন প্রেসে অভিযান চালানো হচ্ছে। যদি কেউ ব্যালট পেপার করে থাকে আমাদের খবর দেবেন। ইনশাআল্লাহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা পোলিং এজেন্ট থাকবেন আপনারা দেখবেন কোনো ভোটার দুইটার জায়গায় ৩টা ব্যালট ফেলছে কিনা? এবার তো গণভোটের একটা ব্যালট থাকবে এবং নরমাল একটা ব্যালট থাকবে। আপনারা তৎপর থাকবেন।"
তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেকটা ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। যদি কোনো কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা না থাকে ওইখানে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। কাজেই কেউ যদি কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা করেও থাকে পার পাবে না।"
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, "যারা জাল ভোট দিতে চাইবে তারা কিন্তু বিভিন্ন ছলাকলার আশ্রয় নেবে। তারা দীর্ঘ লাইনে ভিড় করে তাড়াহুড়ো করবে যেন আমাদের কর্মকর্তারা সময় না পায়। আমরাও তৎপর আছি। আমাদের তরফ থেকে ভোটার দেখে দেখে ভোট নেব। পাশাপাশি আপনারাও দেখবেন কেউ যেন জাল ভোট না দেয়। আমরা ভোট কেন্দ্রের সামনে তালিকা টাঙিয়ে দেব যেন ভোটাররা সহযোগিতা পায়। আনসারদেরও বলে দেওয়া আছে তারা যেন ভোটারদের সহযোগিতা করে।"
শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক বলেন, "আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে দিতে পারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পক্ষপাত করবে না। সেনাবাহিনী প্রধান আশ্বস্ত করেছেন সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সেনাবাহিনী আপনাদের কেন্দ্র পর্যন্ত সহযোগিতা করবে। প্রিজাইডিং অফিসার চাইলে সকল বাহিনীকে তিনি রাখতে পারবেন। সেটা সেনাবাহিনী, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স হতে পারে। সকল ধরনের বাহিনী প্রিজাইডিং অফিসারকে সহযোগিতার জন্য রেডি।"
তিনি বলেন, "আমরা এবার নতুন একটা পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। প্রত্যেক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল্যায়ন হবে। প্রিজাইডিং অফিসারকে একটা মূল্যায়ন শিট দেওয়া হবে। প্রিজাইডিং অফিসার লিখবে কার কি ভূমিকা ছিল।"
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মোহামমদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর