ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবানের জেলার জনবহুল ও সর্ববৃহৎ লামা উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতীতের স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতার কারণে উপজেলার এক-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে ৩০০নং সংসদীয় আসন।
বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে লামা উপজেলায় ৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি ভোটকেন্দ্রকে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোটার সংখ্যা এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা ইউনিয়নের কমচঙ ইয়ুংছা মাওরুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ১১টি দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রকে ‘হেলিস্টি ভোটকেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম আনা-নেওয়ার কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
বান্দরবান জেলায় সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে বাঙালি ছাড়া ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর বসবাস। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৭টি।
লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, লামা উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৪২টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ২২৩টি। এরমধ্যে ৩৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ দেখানো হয়েছে। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪ হাজার ৯২৮ জন এবং নারী ভোটার ৪২ হাজার ৬২৬ জন। এছাড়া ১২৭৫ জন সরকারি চাকরিজীবি পোস্টাল ব্যালেটের জন্য আবেদন করেছে। তাদের ব্যালেট কেন্দ্রে যাবেনা।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়াতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ৪২টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশি নজরদারীতে ১৪টি কেন্দ্রকে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, লামা উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতার স্মৃতি এখনো টাটকা। বিশেষ করে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা স্কুলে গোলাগুলি, একই ইউনিয়নের এম হোসেন পাড়া কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার সহ কেন্দ্রের সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখা, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা ও হায়দারনাশী কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে অবরুদ্ধ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সরই ইউনিয়নের আন্ধারী জামালপুর পাড়া কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনা। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার লামা উপজেলার ১৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর